ঝিনাইদহে গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রীস্মকালীন বারি হাইব্রিড-৪ টমেটো চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। অসময়ে সুস্বাদু সবজি হওয়ার কারণে চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। রোজার মধ্যে টমেটো বিক্রি করে ভাল লাভ করেছেন তারা। উপজেলার কুল্লাপাড়া গ্রামে প্রায় ৩০ জন চাষী প্রায় ২০ বিঘা জমির প্রদর্শনী প্লটে এই টমেটো চাষ করেছেন। মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই অংগ) ও উপজেলা কৃষি অফিস টমেটো চাষে সার্বিক সহযোগিতা করছে কৃষকদের।
টমেটো চাষী আব্দুস সাত্তার জানান, গ্রীস্মকালে সচারচর এই টমেটো দেখা না গেলেও কুল্লাপাড়া ও রঘুনাথপুর গ্রামের ৩০ জন কৃষক এ বছর টমেটো চাষ করেছেন। অসময়ে চাষ হওয়ায় টমেটোর বিশাল চাহিদা থাকে। ফলে দামও পাওয়া যায় ভালো। তিনি বলেন, এ মৌসুমে ১৮ হাজার টাকা খরচ করে ৮ শতক জমিতে ৮২০টি টমেটো গাছ লাগিয়ে এ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি হয়েছে। সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ মন করে টমেটো বিক্রি করা যায়। তিনি আরো জানান, যদি আবহাওয়া ভালো তাকে তাহলে ৮ কাটা জমি থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা আয় হবে।
একই গ্রামের কৃষক পরিতোষ কুমার জানান, এ বছর মাত্র ১০ কাঠা জমিতে উন্নত জাতের বারি হাইব্রিড-৪ টমেটো চাষ করেছেন। সবে মাত্র টমেটো সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গত ২ সপ্তাহে প্রায় ১০ মন টমেটো বাজারে বিক্রি করেছে। প্রতি কেজি পাইকারী ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে জমি থেকেই। অসময়ে বাজারে টাটকা তরতাজা টমেটো উঠায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
একই ভাবে চাষ করেছে কুল্লাপাড়া ও রঘুনাথপুর গ্রামের পরিতোষ কুমার, লিখন, আমানত, রহমান, আজাদ, রহিম, আশুতোষ, হরিতোষ, আশরাফ আলী, ঝড়– মন্ডল, নিয়ামত আলী, সাহেব আলী, মনোজ কান্তি বিশ্বাস, শরিফুল ইসলাম ও মমিন মন্ডলসহ ৩০ জন কৃষক।
কৃষকরা জানান, পাইকারী ক্রেতারা টমেটো ক্রয় করে ট্রাক লোড দিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যায়। কৃষকরা জানায়, গত ১বছর আগে যশোর কৃষি গবেষণা ইনিষ্টিটিউটে এই টমেটো চাষ দেখে মুগ্ধ হই। সে সময় কৃষি গবেষক ড. আব্দুল হাকিম সাহেবের কাছে টমেটো চাষ করার জন্য সহযোগিতা চাই। এরপর কালীগঞ্জ কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ২০১২ সালের জুন মাসের প্রথম দিকে জমিতে বীজ রোপন কর হয়। অসময়ে টমেটো হওয়ায় পাখির আক্রমন থেকে রা করতে সবাই উপরে পলিথিনের ছাউনি দিয়েছে। এছাড়া জমির চারপাশে নেট দিয়ে ঘেরা হয়েছে। যে কারণে খরচ বেশি হয়েছে। তারা আরো জানান বারি-৪ জাতের টমেটোর গাছ ৭ থেকে ৮ মাস বেঁচে থাকে। ফলে দেশের অন্যান্য জাতের থেকে এই জাতের টমেটো চাষে লাভ বেশি।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শফিউল আলম জানান, নতুন এই জাতের চাষ বছরের প্রায় সব সময়ই হয়। সবাই যদি এই বারি-৪ জাতের টমেটো চাষে এগিয়ে আসে তাহলে কাঁচা তরকারী ও পুষ্টি চাহিদা পুরণ করা সম্ভব। এছাড়া এই টমেটো চাষ করলে কৃষকরা অন্যন্য চাষের থেকে বেশি লাভবান হবে। তিনি আরো জানান, আমরা যথা সাধ্য চেষ্টা করছি এই জাতের টমেটো চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে। কেউ চাষ করতে চাইলে কৃষি বিভাগ সার্বিক সহযোগী করবে।
কোরবান আলী, ঝিনাইদহ
Share on Facebook































