Time তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পক্ষে জনমত গড়তে ঈদের পর কোমর কষে মাঠে নামবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি | বাংলা কন্ঠ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পক্ষে জনমত গড়তে ঈদের পর কোমর কষে মাঠে নামবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি

-BNP

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পক্ষে জনমত গড়তে ঈদের পর কোমর কষে মাঠে নামবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। শুরুতেই কঠোর আন্দোলনে না গিয়ে ধাপে ধাপে সরকার পতনের আন্দোলন গড়তে চায় তারা।

ক্ষমতাসীনদের নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে জনসভা, পথসভা, গণসংযোগ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবে বিএনপিসহ ১৮ দল।

জনদুর্ভোগ বাড়ে এমন কোন কর্মসূচি তারা সহজে দেবে না বলেও জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

বিএনপির হাইকমান্ড মনে করে, ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিয়ে জনগণের বিরাগভাজন হওয়ার চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে সরকারের দুনীর্তি, লুটপাট ও চাঁদাবাজির খতিয়ান তুলে ধরলে জনমত বাড়বে বিএনপির পক্ষে। তাই কৌশল নিয়েই এগুনো উচিৎ।

দায়িত্বশীল এক সূত্র জানায়, জনগণের জন্য রাজনীতি করছে বিএনপি- এমনটা মনে করেই ঈদের পরে দেশব্যাপী বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি।

এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- জনসভা, গণসংযোগ, সিনিয়র নেতাদের নিয়ে গঠিত ৩৮টি টিমের থানা, জেলা ও বিভাগীয় শহরে ঝটিকা সফরের মাধ্যমে সরকারের ব্যার্থতার কথা তুলে ধরা ইত্যাদি।

এছাড়া ঈদের পর আগামী সেপ্টম্বর ও অক্টোবর মাসে টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী ও কিশোরগঞ্জ জেলায় সমাবেশ করার কথা রয়েছে বিএনপির। এসব সমাবেশে খালেদা জিয়ার প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ারও কথা রয়েছে।

এর পর ঢাকার আশপাশের জেলা মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও নরসিংদী সফর করবেন বিএনপি প্রধান খালেদা। তিনি এ সব জেলায় সমাবেশে বক্তব্যও রাখবেন।

নভেম্বরে দেশের বিভাগীয়, জেলা ও কোন কোন থানা শহরেও বিএনপি প্রধান খালেদা আরও বেশ কয়েকটি জনসভায় অংশ নেবেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য, একজন ভাইস-চেয়ারম্যান, একজন উপদেষ্টা ও একজন যুগ্ম মহাসচিবসহ পাঁচ জনের বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে জেলা, থানা, ইউনিয়ন পর্যন্ত ঝটিকা সফর ও পথসভা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব কমিটির নেতাদের সহযোগিতা করবে জেলা ও থানা বিএনপি নেতারা। এর উদ্দেশ্য জনগণের সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততা বাড়ানো।

এদিকে পূর্ব ঘেষিত জেলা ও থানা বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ বাড়ানোর কর্মসূচি ঈদের পর আবারও শুরুর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।

এ সব কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৪ আগস্ট বিএনপি মহাসচিব সিলেট যাচ্ছেন বলেও দলটির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, দেশ ও জনগণের স্বার্থে বড় ধরনের কোন কর্মসূচি প্রয়োজন মনে করলে ঈদের পরে নীতিনির্ধারণী বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। এ ছাড়া কোন জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপি চেযারপারসনের নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট স্টিয়ারিং কমিটিও করা হয়েছে। ওই কমিটিকে জরুরি কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে ১৮ দল।

এ কমিটির সদস্য সচিব বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে আওয়ামী লীগকে জনরোষের কবলে ফেলতে কৌশল হিসাবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাঠ পর্যায়ে থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন।

ঈদের দিন সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে খালেদার জিয়ার শুভেচ্ছা পৌছে দেওয়ার ও তাদের খোঁজখবর নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলানিউজকে বলেন, “বিএনপি ধ্বংসাত্মক রাজনীতি পছন্দ করে না। এ দলটি জনগণ ও দেশের জন্য রাজনীতি করে। তাই জনগণের ক্ষতি হবে এমন কর্মসূচির পক্ষে বিএনপি প্রধান নন।”

তিনি বলেন, “তারপরও ঈদের পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে দল কি কর্মসূচি দেবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “সরকারের অন্যায়-অত্যাচার-অপকর্ম, নির্যাতন-জুলুমের চিত্র তুলে ধরতে জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগ করা হবে।”

তিনি বলেন, “সরকার দুনীর্তি ও লুটপাটের যে মহোৎসব করছে তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া বিএনপির অন্যতম কাজ।”

ফখরুল আরও বলেন, “নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি এখন বিএনপির একার দাবি নয়, ভোটের অধিকার ও শান্তিতে বসবাসের অধিকার আজ জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।”

মান্নান মারুফ

Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>