Time পদ্মাসেতুতে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের সম্মতি : অর্থমন্ত্রীর | বাংলা কন্ঠ

পদ্মাসেতুতে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের সম্মতি : অর্থমন্ত্রীর

padma

পদ্মাসেতুতে ১২০ কোটি (১.২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক সম্মত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, “আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি।”

“চূড়ান্ত হলে বিশ্বব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে“, বলেন তিনি।

ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ওই কর্মকর্তা।

তিনি জানান, তিনিবৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর রিজভী, বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ডস্টাইন, বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোহাম্মদ তারেক ও ইআরডির কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ইআরডি ও সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকার ঋণ কার্যকরের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। জাইকা এর আগে একাধিকবার ঋণ কার্যকর করার সময়সীমা বাড়িয়েছিল। ২১ সেপ্টেম্বরের পর আর বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলে জাইকা সূত্র জানিয়েছে। এ কারণে এর আগেই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটা ইতিবাচক অবস্থায় পৌঁছার কথা ছিল সরকারের।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ কার্যকর করার সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৩১ সেপ্টেম্বর। আর দুর্নীতির অভিযোগ সুরাহা না হওয়ায় বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুন ঋণ চুক্তি বাতিল করে।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক ছাড়াও এডিবি, জাইকা ও ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ঋণচুক্তি করেছিল।

গত ২৯ জুন পদ্মাসেতুর পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার ব্যর্থ হওয়ায় এই প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করে বিশ্বব্যাংক।

অর্থায়ন না করার বিষয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার এ সেতু-প্রকল্পের দুর্নীতিতে অভিযুক্ত উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত করতে ব্যর্থ। বিশ্বব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল। আর বিষয়টিতে সরকারের কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়।

বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ, সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে প্রাক-যোগ্যতা যাচাই প্রক্রিয়ায় এবং পদ্মাসেতুর পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হতে পারে। এরপর গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পদ্মাসেতুর অর্থায়ন নিয়ে দুদক তদন্ত কাজ শুরু করে। এ ক্ষেত্রে অনুসন্ধান কাজ দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়। একটি হলো পদ্মাসেতুর কাজে ঠিকাদার নিয়োগ ও অপরটি পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ১২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণসহায়তা ছাড়াও এডিবির দেওয়ার কথা ছিল ৬১ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা। তবে তৃতীয় অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এ সেতুর অর্থায়ন থেকে সরছে না বলে জানায়। পদ্মাসেতুতে ৪০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা দেওয়ার কথা জাপানি সংস্থাটির। এছাড়া ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার ঋণসহায়তা দেওয়া কথা। জনগণের বহুল আকাঙ্ক্ষিত এ সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯০ কোটি ডলার।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমানের পদত্যাগ কিংবা তাকে ছুটিতে পাঠানোসহ চারটি শর্ত পালন করলে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন করবে। সংস্থাটি গত জুন মাসে এসব শর্ত দিয়েছিল। বাকি তিনটি শর্ত নিয়ে মীমাংসায় পৌঁছানো গেলেও মসিউরের বিষয়টি ঝুলে ছিল। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি অনুযায়ী, অর্থ উপদেষ্টা ছুটিতে যাচ্ছেন। এরপরই বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে এই ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেল।

Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>