Time বাণিজ্যিক ধারায় ফিরলেন পপি | বাংলা কন্ঠ

বাণিজ্যিক ধারায় ফিরলেন পপি

popi

বাণিজ্যিক ধারার মাধ্যমেই পপির আগমন, উত্থান। গত কয়েক বছরে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন ভিন্নভাবে। টোকাই, এইডস রোগী, ঝাড়–দার- গ্ল্যামারহীন এসব চরিত্রে সাবলীল সাফল্য দেখিয়েছেন। সম্প্রতি ফিরেছেন সেই গ্ল্যামারাস চরিত্রে। সেসব জানাচ্ছেন সোহেল অটল

চলচ্চিত্রে ধারার বিভাজন নিয়ে প্রশ্ন আছে পপির। সে কথা দিয়েই শুরু করলেন, ‘আমি বাণিজ্যিক ধারা এবং অফট্র্যাক- এমন পার্থক্য করতে চাই না। আমার মনে হয় ভালো ছবি-মন্দ ছবির বিভাজন থাকতে পারে। এর বাইরে সব ছবিরই একটা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য থাকে। সুতরাং বাণিজ্যিকের বাইরে কিছু আছে বলে মনে হয় না।’
এমনটা অবশ্য সব শিল্পীই বলে থাকেন। তবুও এই ধারার বিভাজন প্রচলিত। ধারণা করা হয়, তুমুল গ্ল্যামারাস অভিনেতা-অভিনেত্রী যখন হঠাৎ করেই তার গ্ল্যামারের সব আলো নিভিয়ে চরিত্রের ভেতর ডুব দিতে থাকেন- তখন কোনো উদ্দেশ্য থাকে। আপাতদৃষ্টে সেই উদ্দেশ্য হচ্ছে- ভালো কোনো চরিত্রে অভিনয় করে আগামী দিনের জন্য বেঁচে থাকা। কিছু পুরস্কারের উদ্দেশ্যও যে থাকে না, তা-ও না। যেমন পপির কথাই ধরা যাক। পরপর তিন বছর টানা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে হ্যাটট্রিক করেছেন চিত্রাভিনেত্রী পপি। ২০০৭ সালে কালাম কায়সার পরিচালিত ‘কারাগার’ ছবিতে টোকাই চরিত্রে অভিনয় দতার জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে ‘অবাক’ হয়েছিলেন পপি। পরের বছর নারগিস আক্তারের মেঘের কোলে রোদ ছবিতে এইডস রোগীর ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য আবারো জিতলেন একই পুরস্কার। ২০০৯ সালে ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড পরিচালিত ‘গঙ্গাযাত্রা’ ছবিতে ঝড়ুদারের ভূমিকায় অভিনয় করে চলতি বছরের ২৩ জুলাই তৃতীয়বারের মতো হাতে তুলে নিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তুমুল গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী পপির এই তিনটি চলচ্চিত্রের চরিত্র একেবারেই গ্ল্যামারহীন।
কথা উঠতেই বেশ শক্তভাবে প্রতিবাদ করলেন পপি। ‘না না, পুরস্কারের আশায় আমি অভিনয় করিনি। আমার জানা নেই স্রেফ পুরস্কারের আশায় কেউ অভিনয় করে কি না। ভালো চরিত্র, ভালো চলচ্চিত্র- এসব বিবেচনাই আমার কাছে প্রধান। আমি সেই দিক থেকেই নির্ধারণ করি কোন ছবিতে অভিনয় করব, কোনটাতে করব না।’
তবে কি পুরস্কার শিল্পীর আরাধ্য থাকে না? পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি কি পানসে?
নিশ্চয়ই না। পপি সেটাও ব্যাখ্যা করলেন, ‘পুরস্কার পেতে কার না ভালো লাগে? পুরস্কার তো কাজের স্বীকৃতি। কাজের স্বীকৃতি পেতে অন্য দশজনের মতো আমারও ভালো লাগে। এই যে জাতীয় পুরস্কারগুলো পেলাম- এ তো আমার অভিনয় জীবনের সেরা অর্জনের একটা। অবশ্যই সেরা অনুভূতিও।’
পরপর বেশ কয়েকটা ছবিতে পপিকে গ্ল্যামারহীন উপস্থাপন করা হয়েছে। সেটা চরিত্রের প্রয়োজনেই। অথচ পপিকে বলা হয় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী। পপি নিজেও স্বীকার করেন সে কথা। যে কারণে প্রচলিত বাণিজ্যিক ধারার ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারটা এড়িয়ে যেতে পারেন না। এখন রুচিশীল বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণ হচ্ছে। তাতে অভিনয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছেন তিনি। সম্প্রতি তেমনই একটা ছবিতে অভিনয় শুরু করেছেন। ছবির নাম বিয়ে হলো বাসর হলো না। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন জায়েদ খান।
এ প্রসঙ্গে পপি বললেন- ‘চলচ্চিত্র সব সময়ই বিনোদনের বৃহত্তর মাধ্যম। এখানে বিনোদনের নানা উপাদান থাকতে হয়। অফট্রাকের ছবি বলতে যা বোঝায়- তাতে হয়তো অতটা বিনোদন উন্মুক্ত থাকে না। কিন্তু এই বিনোদন জোগানের সুযোগ নিয়ে গত দশকে রুচিহীন চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে প্রচুর। যে কারণে নিজেকে একটু গুটিয়েও নিয়েছিলাম। এখন সেই অবস্থা নেই। ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণের চেষ্টা চলছে। নিজেকে আবারো তাই সংযুক্ত করলাম। আশা করছি ফলাফল ভালোই হবে।’
সামনে আরো কয়েকটা এই ধারার চলচ্চিত্রে তাকে দেখা যাবে। কথাবার্তা চলছে বলে জানালেন পপি। হয়তো নিয়মিতই পপিভক্তরা বড় পর্দায় পাবেন তাকে।
বাংলা চলচ্চিত্রে পুরস্কারে রেকর্ড গড়া এই গুণী অভিনেত্রীর যাত্রাটা কিন্তু চলচ্চিত্র দিয়ে নয়। ১৯৯৫ সালে তিনি শোবিজে এসেছিলেন ‘লাক্স আনন্দ বিচিত্রা’ ফটো সুন্দরী হয়ে। সে বছরই তিনি লাক্সের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে সবার মন কাড়েন। ভারতের নির্মাতা টুকু চ্যাটার্জি বিজ্ঞাপনটিতে পপির সৌন্দর্য দেখাতে পেরেছিলেন ঠিকমতোই। এর পরপরই নামি-দামি চিত্রপরিচালকরা পপির সাথে যোগাযোগ করতে থাকেন। কিন্তু বাবা আমির হোসেন কোনোক্রমেই মেয়েকে চলচ্চিত্রে দেয়ার জন্য রাজি ছিলেন না। তবে মা কিছুটা সদয় ছিলেন বলেই শেষ পর্যন্ত রুপালি পর্দায় পা রাখতে পেরেছিলেন পপি।
কাস ফাইভে পড়ার সময় সালমান শাহ-শাবনূর অভিনীত ‘বিােভ’ ছবি দেখে বাড়িতে মার খেয়েছিলেন পপি। কিন্তু মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি সালমান শাহকে। তাই ১৯৯৬ সালে মনতাজুর রহমান আকবর যখন সেই সালমানের সাথেই তাকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিলেন, এক কথায় রাজি হয়ে গেলেন কেবল সালমানের সাথে অভিনয়ের লোভে। কিন্তু সে বছরই সালমান মারা গেলেন। পপির আশা পূরণ হলো না। ছবির নায়ক হিসেবে নেয়া হলো ওমর সানিকে। তখন সানি ছিলেন পপির ভগ্নিপতি। ১৯৯৭ সালে পপির প্রথম ছবি ‘কুলি’ মুক্তি পেতেই রাতারাতি তারকা বনে গেলেন তিনি।
১৯৯৭ থেকে ২০১২, কালে কালে বেলা কম গড়ায়নি। বয়সও বসে নেই। সেই টিনএজ মেয়েটা এখন রীতিমতো ঝড়ঝঞ্ঝার সংসারী। তবে সে সংসারে কেউ একজন নেই। বিয়ে করেননি যে! এ প্রসঙ্গে পপি যা বললেন তাতে তার সংসারের প্রতি দায়িত্ববোধ প্রকট হয়ে ওঠে। পপি বলেন, ‘আমি সংসারের বড় সন্তান। নিজের ওপর অনেক দায়িত্ব। ছোট ভাইবোনদের লেখাপড়া, তাদের মানুষের মতো মানুষ করার দায়িত্ব আমার। সে দায়িত্ব যত দিন না পালন করা সম্পূর্ণ হচ্ছে, তত দিন বিয়েকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাই।’
পপি, তুলি, খেয়ালি, দিপু, সুমি ও সামির- এই ছয় ভাইবোনের মধ্যে পপিই বড়। বলতে গেলে পুরো পরিবারের দায়িত্বটাই এখন তার কাঁধে। তিনি এমন কিছু করতে চান না, যা তার পরিবারের জন্য খারাপ কিছু বয়ে আনতে পারে। তাই যখন-তখন সম্পর্ক ভাঙা-গড়ায় বিশ্বাসী নন তিনি। জানালেন, তিনি বিয়ে করতে চান এমন একজন মানুষকে যার মনমানসিকতা সুন্দর, যার ওপর তিনি নির্ভর করতে পারবেন এবং বলতে পারবেন মনের সব কথা।
পারিবারিক দায়িত্ব পালন করার মধ্যেও একটা আনন্দ আছে। সেই আনন্দ নিয়েই বেঁচে থাকতে চান পপি। বেঁচে থাকতে চান দর্শকের মনের মধ্যেও। বাণিজ্যিক কিংবা অফট্র্যাকের বৃত্তে নয়, একজন শিল্পী হিসেবেই সেই বেঁচে থাকার আশা।

সোহেল অটল

Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>