ভোলায় রূপালী ইলিশের আকাল ॥ জেলে পল্লীতে দূর্দিন
ভোলার মেঘনায় জেলেদের জালে রুপালি ইলিশের দেখা এখনো মেলেনি। জালে ইলিশ ধরা না পরায় ভোলার জেলে পাড়া গুলোতে চলছে হাহাকার। অন্যদিকে আড়ৎদারদের মুখেও নেই হাসি। দুই একটা ছোট সাইজের ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়ায় বর্তমানে কেউ খুশি নয়। ইলিশ কম পাওয়ায় দাম আকাশ ছোয়া হলেও মৎস্য ব্যাবসায়ীরা ব্যবসায় তেমন একটা লাভবান হতে পারছেনা। জেলেদেরও একই অবস্থা। ইলিশ মৌসুমের ৩ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো মেঘনায় মাছের দেখা না পাওয়ায় জেলে ও আড়তদার উভয়ের মাঝেই হতাশা বিরাজ করছে।
ভোলা থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা ইলিশের জনপদ হিসেবে একটা পরিচিতি রয়েছে। এখানকার প্রধান পেশা কৃষি হলেও প্রায় সবই মৎস্য সম্পদের উপর নির্ভরশীল । সরকারী হিসাব মতে ২০ সহস্রাধিক হলেও দেড় লক্ষাধিক মানুষের এই আবাস ভূমিতে প্রায় ৪০ সহস্রাধিক মানুষ মাছ ধরার সাথে জড়িত রয়েছেন বলে স্থানীয় জেলেদের ধারনা। মেঘনার ইলিশকে ঘিরে মনপুরার মানুষের জীবন ও জীবিকার চাকা ঘুরছে। মেঘনায় ইলিশ আছে তো মানুষের মুখে হাসি আছে। মেঘনায় ইলিশ না পড়ায় জেলে আড়তদারদের জীবন ও জীবিকা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বছরের জৈষ্ঠ্য মাস থেকে ইলিশ পড়ার মৌসুম শুরু হয় বলে জেলেদের মধ্যে জনস্রুতি রয়েছে। সেই হিসেবে ইািলশ মৌসুমের প্রায় ৩ মাস অতিবাহিত হলেও মেঘনায় ইলিশের দেখা মিলছেনা। জেলে আড়তদাররা দুর্দিন পার করছেন।
এদিকে আড়ৎদাররা ইলিশের উপর নির্ভর করে জেলেদের মাঝে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। মেঘনায় মাছ পাওয়া গেলে তা বিক্রি করলে তারা একটা নিদিষ্ট অংকের কমিশন পাবেন বলে আশায় বুক বেধে আছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলার হাজীর হাট ঘাটের আড়তদার মোঃ আব্বাস বলেন কয়েক মাস আগ থেকেই মেঘনায় ইলিশ মাছ পাওয়ার কথা। ৩ মাছ অতিবাহিত হয়ে গেলও ইলিশের দেখা নেই। সব টাকা মেঘনায় বিনিয়োগ করে এখন শুধু সেদিকে তাকিয়ে থাকি। কখন জেলেরা নৌকা কিংবা ট্রলার ভর্তি করে মাছ নিয়ে আসবে।
সাকুচিয়ার মাঝের ঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ও ৪নং দনি সাকুচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অলিউল্যাহ কাজল বলেন, আল্লাহ তায়ালা যদি মেঘনায় মাছের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে জেলেরা হাসি খুসিতে দিনানিপাত করবে। পাশা পাশি আমরাও মেঘনায় যে মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করেছি সে টাকাও মোটামুটি লাভ সহকারে ফিরে পাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এজন্য বিধাতার কাছে করুনা প্রার্থনা করছি।
এদিকে উপজেলার চরফৈজুদ্দিন রিজির খাল এলাকার জেলে আবুল হাসেম মাঝি বলেন, অনেক কষ্ট করে জীবন বাজী রেখে মাছ ধরতে মেঘনায় যাই। ৮/১০ জন মাঝির খাওয়া খরচ চালিয়ে যে খরচ হয় তাতে যে মাছ পাই তা বিক্রির টাকা দিয়ে খরচ পুশিয়ে মাঝিদের কোন টাকা দিতে পারিনা। যা দিয়ে তারা সংসার পরিচালনা করবে।
রামনেওয়াজ ঘাটের জেলে বাবুল মিয়া বলেন, এখন অল্প কিছু মাছ পড়ছে। কিন্তু কিছুদিন পুর্বেও ২/১টি কিংবা ৪/৫টি মাছ নিয়ে ফিরে আসতে হতো। এতে করে আমাদের অনেক লোকসান হতো তখন বউ বাচ্চাদের ২/১বেলা উপোষ থাকতে হয়েছে।
অচিন্ত্য মজুমদার ভোলা
Share on Facebook





























