Time রাষ্ট্রপতি সংসদ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেবেন : সংসদে প্রধানমন্ত্রী | বাংলা কন্ঠ

রাষ্ট্রপতি সংসদ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেবেন : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

hasina-3

নির্বাচনকালে সংসদ থাকবে কি, থাকবে না- এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাষ্ট্রপতিই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সংসদে বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, “ওয়েস্ট মিনিস্টার টাইপে সরকার প্রধান রাষ্ট্রপতিকে বলবেন, কবে নির্বাচন করতে চান। তখন রাষ্ট্রপতি নির্দেশ দেবেন। যেমন তখন আমি বলব- কত তারিখে নির্বাচন, উনি (রাষ্ট্রপতি) সে নির্দেশ দেবেন।

“পার্লামেন্ট রেখে তো আর নির্বাচন হবে না। উনি (রাষ্ট্রপতি) যেভাবে নির্দেশ দেবেন সেভাবে হবে। উনি বলবেন, কতজনের মন্ত্রিসভা থাকবে, মন্ত্রিসভা ছোট হবে কি না, পার্লামেন্ট ডিজলভ করা হবে কি না। এটা উনার এখতিয়ার।”

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এই বক্তব্য দিলেও এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে এখন সংসদের মেয়াদ ফুরোনোর তিন মাস আগে জাতীয় নির্বাচন হবে।

ওই সময় সংসদ থাকলেও তা অকার্যকর থাকবে বলে সংবিধান সংশোধনে গঠিত সংসদীয় কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলে আসছেন।

তবে ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও বলে আসছেন, সংসদ থাকা অবস্থায় পরবর্তী সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি করবে।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনে বিলুপ্ত হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিও, যা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপিসহ বিরোধী দল।

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না বলে বিএনপি যে আশঙ্কা প্রকাশ করছে, তা উড়িয়ে দিয়ে বর্তমান সরকারের অধীনে বিভিন্ন নির্বাচনকে নজির হিসেবে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সংসদের উপ-নির্বাচন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

“কাজেই মহাজোট সরকারের অধীনে যে কোনো ধরনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার মতো গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেশে ফিরে এসেছে বিধায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন নেই।”

ত্রয়োদশ সংশোধনী নিয়ে আদালতের রায়ের পর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে বিলোপ করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি।

তত্ত্ব¡াবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।

তার একদিন আগে সংসদে এই বিষয়ে বক্তব্যে শেখ হাসিনা আরো বলেন, “বিশ্বের কোনো গণতান্ত্রিক দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু আছে মর্মে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংবিধানে যোগ করার দাবি এক সময়ে জানিয়ে আসা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার ভোটচুরির নির্বাচন করে।”

বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার যে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে, সে অভিজ্ঞতা দেশের জনগণের মনে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। আবার যদি এ ব্যবস্থা আসে, আর যদি ক্ষমতা না ছাড়ে, তাহলে জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার হারাবে।”

“সাংবিধানিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। গণতন্ত্র অব্যাহত থাকুক- তাই চাই। দেশকে আবার অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেব না,” বুধবারই প্রশ্নোত্তর পর্বের পর চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে একথা বলেন শেখ হাসিনা।

‘কোনো কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিচ্ছি না’

চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হলমার্কের মতো আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা সরকার ধামাচাপা না দিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “সোনালী ব্যাংকের এমডি জিয়া পরিষদের নেতা ছিলেন। আর, যাকে নিয়ে এত কথা, তার উত্থান হাওয়া ভবন থেকে শুরু। তত্ত্বাবধায়কের সময়ে যখন সব ব্যবসায়ীরা পালিয়েছিল, তখন সে ফুলে ফেঁপে ওঠে।”

“আমরা তো ধামাচাপা দিচ্ছি না, ব্যবস্থা নিচ্ছি। ধরলেই তো হবে না। টাকা তো উদ্ধার করতে হবে,” বলেন শেখ হাসিনা।

হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কাউকে ছেড়ে দিচ্ছি না।”

রাষ্ট্রের অর্থ লুণ্ঠনের সংস্কৃতি সামরিক শাসকদের সৃষ্টি মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, “মিলিটারি ডিকটেটররা ব্যাংক লুট করা শিখিয়েছে। তারা খেলাপি ঋণের কালচার শুরু করেছে।”

বিরোধীদলীয় নেতার ছেলেদের বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিদেশিরা এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। এরপরও তাদের কী বলার থাকে?”

“বিরোধীদলীয় নেতা কালো টাকা সাদা করেছেন। অরফানেজের টাকা লুটে খেয়েছেন। যদি অন্যায় না করবেন, তো কোর্টে যান না কেন? ঢাকা শহরে থাকেন, কিন্তু কোর্টের দিন অসুস্থ হয়ে যান। তারপর আবার সুস্থ হয়ে আমাদের গালিগালাজ করেন,” খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে বলেন শেখ হাসিনা।

সমাপনী বক্তব্যে সংসদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা নাই। তা-ও তাকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, ৯০ দিন হওয়ার আগে আবার আসবেন।”

Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>