সংবাদ শিরোনাম

  সোনার নৌকা উপহার নিয়ে আলোচনায় ভূমিমন্ত্রী ডিলু  কুমিল্লায় ট্রাক উল্টে নিহত ৬  ঢাকায় ছাত্রী ধর্ষিত, শিক্ষক পলাতক  যানজট এড়াতে মহাসড়কে বসছে ওয়াচ টাওয়ার

খালেদার ফেরা ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে : হাসিনা

pm

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, “উনি (খালেদা জিয়া) পরাজিত হয়েছেন। উনাকে পরাজিত হয়ে কোর্টে হাজিরা দিয়ে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে।”

খালেদা জিয়া ‘পরাজিত’ হওয়ায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর নেতাদের অভিনন্দন জানাতে গণভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর দিন এই অনুষ্ঠানের শুরুতেই শেখ হাসিনা বলেন, “আপনাদের ধন্যবাদ জানানোর জন্যই আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”

নির্দলীয় সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ডাক দিয়ে লাগাতার অবরোধ ডেকে তিন মাস কার্যালয়ে অবস্থানের পর গত রোববার বাসায় ফিরে যান খালেদা জিয়া। দাবির বিষয়ে সরকারের নত না হওয়া এবং দৃশ্যত অকার্যকর অবরোধ-হরতালের পর আন্দোলনের অর্জন কী- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে খালেদা জিয়া এক মাস আগে বলেছিলেন, “জনগণের সমর্থন চেয়েছিলাম, তা পেয়েছি।”

শেখ হাসিনা বলেন, “উনি (খালেদা জিয়া) বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন না ঘটিয়ে উনি ঘরে ফিরবেন না।

“আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়ে ফুলের মালা গলায় দিয়ে উনি ঘরে ফিরবেন- তা উনার ভাগ্যে জোটে নাই। বিএনপি নেত্রী উনার গুহা থেকে বের হয়েছেন। বিজয়ের বেশে ফিরতে পারেন নাই, ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে ফিরতে হয়েছে।”

খালেদা জিয়ার অবস্থানের মধ্যে তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন, তাতে ঢাকা মহানগরের কর্মীরাই প্রধানত উপস্থিত থাকতেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “এই বিজয় জনগণের, এই বিজয় ধরে রাখতে হবে। যারা স্বাধীনতার সপক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, যারা এই দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন চায়, তাদেরই বিজয়।

“আর কেউ যেন উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

“রাজধানী আন্দোলনকারীদের দখলে থাকলেই আন্দোলন গতিশীলতা পায়, সফলতা পায়,” দলের নেতাদের মনে করিয়ে দেন আওয়ামী লীগ প্রধান; যেখানে ঢাকায় আন্দোলনে গতি না থাকার হতাশা বিএনপিতে।

খালেদা জিয়ার দেশের ‘স্বার্থবিরোধী’ তৎপরতা রুখে দিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সক্রিয়তায় ঢিল না দিতেও আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

“ঘূর্ণিঝড় যে কোনো সময় আসতে পারে। সদা-সর্বদা তা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। এদেশের মানুষের কেউ ক্ষতি করবে-তা আমরা সহ্য করতে পারি না।”

কার্যালয়ে অবস্থান করে খালেদা জিয়ার ডাকা লাগাতার অবরোধে সহিংসতায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়, যার বেশিরভাগেই মারা যান গাড়ি পোড়ানো ও পেট্রোল বোমায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটা অভিনব জিনিস দেখলাম। বিএনপি নেত্রী বাড়ি ছেড়ে নিজেকে নিজেই অফিসে অবরুদ্ধ করলেন। ওই অফিসে বসে তার একটাই কাজ ছিল- মানুষ খুন করা।”

হরতাল-অবরোধে নাশকতার শিকার মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অভিনন্দনও জানান তিনি।

“এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে আপনারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আপনারা মানুষের জানমাল রক্ষা করেছেন। সে জন্যই হরতাল-অবরোধ কোনোভাবেই সফলতা অর্জন করতে পারে নাই।”

খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় হাজিরা এড়াতেই হরতাল ও অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

এসব কর্মসূচির জনসমর্থনহীনতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসী দিয়ে বোমা মেরে জনগণের মতামত পরিবর্তন করা যায় না।”

Print Friendly

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *