সংবাদ শিরোনাম

  সোনার নৌকা উপহার নিয়ে আলোচনায় ভূমিমন্ত্রী ডিলু  কুমিল্লায় ট্রাক উল্টে নিহত ৬  ঢাকায় ছাত্রী ধর্ষিত, শিক্ষক পলাতক  যানজট এড়াতে মহাসড়কে বসছে ওয়াচ টাওয়ার

আপিলে গেছেন লতিফ সিদ্দিকী

latif-siddiki

আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে তার আবেদনের ওপর শুনানি হবে আগামী রোববার। দল থেকে বাদ পড়ায় তার সংসদ সদস্যপদ থাকবে কি-না, সে বিষয়ে ওইদিনই নির্বাচন কমিশনে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের শুনানির এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে লতিফ সিদ্দিকীর করা রিট আবেদন বৃহস্পতিবার সকালে খারিজ করে দেয় বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চ।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে থাকা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোরশেদুল আলম ওই আদেশের পর বলেন, “নির্বাচন কমিশন লতিফ সিদ্দিকীকে যে নোটিস দিয়েছে, তাতে আইনের কোনো বত্যয় ঘটেনি। বিষয়টি মীমাংসা বা নিষ্পত্তির এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের হাতে।

“রিট আবেদনকারীর কোনো বক্তব্য থাকলে তিনি তা কমিশনের শুনানির সময় উপস্থাপন করতে পারেন। এসব দিক বিবেচনা করে আদালত রিট আদেনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।”

এরপর হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের নোটিস স্থগিতের আবেদন করেন লতিফের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আবেদনটি ২৩ অগাস্ট শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

একই দিনে নির্বাচন কমিশনে শুনানির তারিখ থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “আপিল বিভাগ বসে সকাল ৯টায়। আর নির্বাচন কমিশন যে নোটিস দিয়েছে তাতে ১১টায় শুনানিতে থাকতে বলেছে। সুতরাং আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তেই বোঝা যাবে, তাকে যেত হবে কি না।”

গত বছর সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে হজ নিয়ে মন্তব্য করে লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রিত্ব হারান। সেই সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন।

দেশে ফেরার পর ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মামলায় নয় মাস কারাগারে কাটাতে হয় টাঙ্গাইলের এই সাংসদকে। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান তিনি।

লতিফকে বহিষ্কারের আট মাস পর বিষয়টি জানিয়ে আওয়ামী লীগের পাঠানো চিঠি গত ৫ জুলাই স্পিকার শিরীন শারমিনের হাতে পৌঁছায়। এরপর সংবিধান, মেম্বার অফ পার্লামেন্ট (ডিটারমিনেশন অব ডিসপিউট) অ্যাক্ট, সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মেনে বিতর্ক নিষ্পত্তির কার্যক্রম নেওয়া হয়।

এ অবস্থায় লতিফের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা মীমাংসার জন্য গত ১৩ জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এ পরিপ্রেক্ষিতে মেম্বার অব পার্লামেন্ট (ডিটারমিনেশন অব ডিসপিউট) অ্যাক্ট অনুযায়ী ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও লতিফ সিদ্দিকীকে লিখিত বক্তব্য দিতে বলে ইসি। ২ অগাস্ট দুজনই তাদের জবাব কমিশনে পাঠান।

আশরাফের চিঠিতে বলা হয়, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ না থাকাই সঙ্গত।

অন্যদিকে লতিফ সিদ্দিকী তার সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সংসদের উপর ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। এরপরই শুনানির সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। লতিফ ও সৈয়দ আশরাফকে আগামী ২৩ অগাস্ট শুনানিতে হাজির হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

লতিফ হাই কোর্টে যে রিট আবেদন করেছিলেন, তাতে কমিশনের দেওয়া চিঠির কার্যকারিতা স্থগিতের আরজি জানানোর পাশাপাশি ওই চিঠি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে রুলও চাওয়া হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশন, আইন সচিব, নির্বাচন কমিশনের উপসচিব (আইন) ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে ওই রিট আবেদনে বিবাদী করেন লতিফ।

Print Friendly

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *