#  ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবদান রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির #  নবীনগর ঋষিপাড়ায় নির্মাণাধীন সরকারি বাসগৃহ পরিদর্শনে ইউএনও #  শাল্লায় দায়সাড়া ভাবে চলছে কোটি টাকার কাজ #  শাল্লায় এখনো শুরু হয়নি ফসলরক্ষা অধিকাংশ বাঁধের কাজ #  নতুন ভাইরাসে চতুর্থ ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত করলো চীন #  মেলান্দহে ইউনিয়ন পরিষদের ভবন উদ্বোধন #  নবীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা গিরীন্দ্র চন্দ্র দাশের পরলোক গমন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান #  নবীনগরে কৃষিজমি রক্ষায় ড্রেজার ধ্বংস #  ইবিতে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপে সংঘর্ষ, সম্পাদকসহ আহত ২০ #  সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে : সংসদে তথ্যমন্ত্রী #  নবীনগরে এম এ খায়ের বারীর ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী পালন #  নরসিংদীতে গ্রাহক সেবায় পল্লী বিদ্যুতের উঠান বৈঠক #  নবীনগরে অটোরিক্সার হাইড্রোলিক হর্ণ নিষিদ্ধ #  বানিয়াচং উপজেলা ছাত্রলীগর কমিটি ঘোষনা : মামুন সভাপতি, পুলক সম্পাদক #  এক বছরে ৩৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা #  প্রথম আলো সম্পাদকের আগাম জামিন, অন্য ৫ জনকে হয়রানি না করার নির্দেশ #  বানিয়াচংয়ে পুলিশের অভিযানে পরোয়ানাভূক্ত ৫ আসামী গ্রেফতার

আজ বরগুনা হানাদার মুক্ত দিবস

BARGUNA (BK) PIC (1)

বীরেন্দ্র কিশোর, বরগুনা : আজ ৩ ডিসেম্বর। বরগুনার ইতিহাসে একটি স্মরনীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানী হানাদারদের হাত থেকে মুক্ত হয় বরগুনাবাসী। এর আগে নানা কৌশলে বরগুনাকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র আ: সত্তার খানের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা বরগুনাকে মুক্ত করে।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পরে বরগুনার মুক্তিকামী তরুনরা রাইফেল, বন্দুক ও বাঁশের লাঠি নিয়ে বরগুনার বিভিন স্থানে সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রস্তুতির মধ্যে ২৬ এপ্রিল পাকবাহিনী পটুয়াখালী জেলা দখল করে ফেলে। এ যুদ্ধে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও ক্ষয়-ক্ষতি হয়। ভয়ে বরগুনার মুক্তিযোদ্ধারা এলাকা ছেড়ে চলে যান। এদিকে পাক বাহিনী ১৪মে বরগুনা এসে বিনা বাধায় বরগুনা শহর দখলের পর পাথরঘাটায় বিষখালী নদীর তীরে নির্মম গণহত্যা চালায়। তারপর অন্য থানা গুলো দখল করে পটুয়াখালী চলে যায়। ২৬ মে পাকিস্তানী ক্যাপ্টেন শাফায়াতের নেতৃত্বে ৪ জন পাক সেনা বরগুনা আসে এবং ২৯ ও ৩০ মে বরগুনা জেলখানায় ৭৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে। তাদেরকে জেলা কারাগারের দক্ষিণ পাশে গণ কবর দেয়া হয়।

এরপর দলে দলে তরুণ আধুনিক ট্রেনিং গ্রহনের জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতে যায়। ফিরে আসে তারা বুকাবুনিয়ার সাব-সেকটরের অধীনে। আবদুস সত্তার খানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের ২১ সদস্যের একটি দল ২ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে বেতাগীর বদনীখালী নামক স্থানে অবস্থান নেয়। তারা একজন সহকর্মীকে র‌্যাকি করার জন্য বরগুনা পাঠায়। তার সংকেত পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা একটি বড় বাচারী নৌকাযোগে বিষখালী নদী দিয়ে বরগুনা রওনা হয়। রাত ৩ টার দিকে তারা বরগুনার খাকদোন নদীর তীরে পোটকাখালী নামক স্থানে অবস্থান নেন।

সেদিন যার নেতৃত্বে বরগুনা মুক্ত করা হয়েছিলো সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সত্তার খান জানান, বরগুনাকে মুক্ত করার কৌশল হিসেবে তারা বরগুনা কারাগার, ওয়াপদা কলোনী, জেলা স্কুল, সদর থানা, ওয়ারলেস ষ্টেশন, এসডিও’র বাসাসহ বরগুনা শহরকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। এরপর তারা হেঁটে বরগুনা শহরে এসে যে যার অবস্থান নেন। তারা ফজরের আযানকে অভিযান শুরুর সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে আযান শুরুর সাথে সাথে ৬টি স্থান থেকে একযোগে ফায়ার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। রাজাকার এবং পাকিস্তান পন্থি পুলিশরা তখন নিরাপত্তার জন্য জেলখানায় আশ্রয় নিয়েছিল কোন প্রতি উত্তর না পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দ্বিতীয় দফা ফায়ার করে জেলখানার দিকে অগ্রসর হয়। জেলখানায় অবস্থানরত পুলিশ ও রাজাকারদের আত্মসমর্পন করিয়ে তারা যান তৎকালীন এসডিও আনোয়ার হোসেনের বাসায়।

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পন করার পর তাকে নিয়ে আসা হয় তার অফিসে। সেখানে ট্রেজারীর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপত্তার খাতিরে বর্তমান সিরাত একাডেমির পাশে অবস্থিত ন্যাশনাল ব্যাংক থাকা টাকা নিজেদের অধিকারে নেয়। যা দেশ স্বাধীনের পর সরকারী তহবিলে জমা করা হয় বলে জানা যায়।

এরপর বরগুনার শাসনভার পুনরায় এসডিও’র উপর দিয়ে রাজাকার ও পাক পুলিশদের নিয়ে আবার বুকাবুনীয়ার উদ্দেশ্যে বরগুনা ত্যাগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

Print Friendly, PDF & Email