#  সাংবাদিকের মূখ বন্ধ করতে ৩ পিআইসি ! #  ঢাকা-চট্টগ্রাম ইলেকট্রিক ট্রেন চলবে : সংসদে রেলমন্ত্রী #  নবীনগরে দুনীর্তি দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত #  নবীগঞ্জে চেয়ারে বসা নিয়ে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ #  আফগানিস্তানে ৮৩ যাত্রী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত #  বৃষ্টিতে পরিত্যাক্ত শেষ ম্যাচ, হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ #  নবীনগরে জাতীয় জলাতঙ্ক রোগের টিকাদান অবহিতকরণ সভা #  শাল্লায় ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়নি : হতাশায় সাধারণ কৃষক ! #  সন্তানের জন্য ভোট চাইলেন খোকার স্ত্রী #  চীন থেকে ফিরতে ইচ্ছুকদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর #  মেলান্দহে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় #  শাল্লায় ৩দিন ব্যাপী তারকব্রহ্ম হরিনাম মহাযজ্ঞ #  হামলার পর ইশরাকের বাসায় এসে যা বললেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার #  নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যােগ প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে শীতার্ত ছিন্নমুল মানুষের মাঝে কম্বল বিতরন #  বানিয়াচংয়ে হাছনপুরী হুজুরের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল #  সিটি নির্বাচনে ‘ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম’ এর পক্ষ থেকেপাঁচ শতাধিক পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবে #  ১লা ফেব্রুয়ারী সাংসদ মজিদ খানের সংবর্ধনা : বানিয়াচংয়ে আসছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

আজ ৭১ তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস

463066_138

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচিত ও অবহেলিত প্রসঙ্গটির নাম মানবাধিকার। ১৯৪৮ সাল থেকে জাতিসংঘের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা এবং মানবতাবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ে ঘোষিত হয় সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা। তবে এই দিবস পালনে যতটা থাকে আনুষ্ঠানিকতা তার সামান্যতম অংশও বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব থেকে নির্বাসিত হত বিচার বহির্ভূত হত্যা, শিশু ও নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, ছিনতাই, রাহাজানীসহ হাজারো অপরাধ। জাতিসংঘের সকল সদস্যভূক্ত রাষ্ট্র সভা, আলোচনা অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকে। সার্বজনীন মানব অধিকার ঘোষণা ছিল ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নবরূপে সৃষ্ট জাতিসংঘের অন্যতম বৃহৎ অর্জন। এছাড়া ও সার্বজনীন মানব অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাকে’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ তারিখকে নির্ধারণ করা হয়। দিবসটি জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত । ১৯৪৮ সাল থেকে জাতিসংঘের নির্দেশনায় বিশ্বের সকল দেশে প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর পালিত হয়ে আসছে। তবে ১৯৫০ সালের ৪ ডিসেম্বর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩১৭তম পূর্ণ অধিবেশনে ৪২৩(৫) অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সদস্যভূক্ত দেশসহ আগ্রহী সংস্থাগুলোকে দিনটি তাদের মতো করে উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়। মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে সভা-সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ধরণের তথ্যচিত্র কিংবা চলচ্চিত্র প্রদর্শনী প্রধানতঃ এ দিনের সাধারণ ঘটনা। ঐতিহ্যগতভাবে ১০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে প্রতি পাঁচ বৎসর অন্তর জাতিসংঘের মানব অধিকার পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। এছাড়া নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান কার্যক্রমও এদিনেই হয়ে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিভেদ দূর করার লক্ষ্যে মানবাধিকার ঘোষণাটি ছিল একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রতি বছরের মতো এবারো মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন দেশের সকল বিভাগীয় শহর, মহানগর, জেলা, থানা এবং পৌরসভায় নানান কর্মসূচির আয়োজন করেছে। মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্য দায়িত্ব সর্বোপরি মানবতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই হচ্ছে মানবাধিকার ঘোষণার মূল মন্ত্র। আমাদের দেশের সংবিধানে মানবাধিকার সংরক্ষণের কথা থাকলেও মানুষ প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্গনের। সংবিধানের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ”। অন্যদিকে সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে বলা হয়েছে, “সরকার যেই গঠন করুকনা কেন, জনগণের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার দায়িত্ব ওই সরকারের উপর বর্তাবে। জাতীয় জীবনে নারী পুরুষর সমান অধিকার নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে কৃষক শ্রমিককে শোষণ থেকে মুক্ত রাখার অধিকার এই মহান সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। ক্ন্তিু দুঃখের বিষয় বিশ্বের অন্যান্য দেশেরে মতো আমাদের মহান সংবিধানেও মানবাধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও ব্যপকহারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে প্রতিনিয়ত। নারী, শিশু-প্রতিবন্ধী-দরিদ্র-প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও আদিবাসীসহ প্রতিটি মানুষের অধিকারের বিষয়টি জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ও নীতি নির্ধারনীতে সব ধরনের বৈষম্য, নির্যাতন দূর করে একটি শোষণহীন বিশ্ব গঠনের ‘অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারলেই নিশ্চিত হবে মানবাধিকার। পৃথিবীর সকল দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হবে এই হোক আমাদের আজকের প্রত্যাশা।

লেখক : এস এম খোকন
সাংবাদিক ও
সাধারণ সম্পাদক
সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন
হবিগঞ্জ জেলা শাখা

Print Friendly, PDF & Email