জনপ্রিয় নারী প্রার্থীদের সম্ভাবনা বেশি

পুরুষদের চেয়ে নারী ভোটারের ভোটই বেশি পড়ে। কাস্টিং ভোটের

প্রায় ৬০% ভোটই নারী ভোটারের। কৌশলগত কারণেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের গুরুত্ব দেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। এমনিতেই নারীর ক্ষমতায়নে এটা জরুরি বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা। আবার ভোটারদের বড় একটি অংশ নারী। আর তারা যে স্বাভাবিকভাবেই

নারী প্রার্থীদের প্রতি ঝুঁকবেন এটাই স্বাভাবিক

মোহাম্মদ ওমর ফারুক

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে নির্বাচনী আমেজ চলছে। এতে পুরুষ প্রার্থীদের পাশাপাশি কোনো অংশে পিছিয়ে নেই নারী প্রার্থীরাও। দেশের বিভিন্ন আসনে কয়েকশ’ নারী প্রার্থী নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। বেশির ভাগই দিনরাত নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়েছে অনেক এলাকায়। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এসব নারী প্রার্থীর শোডাউন, উঠান বৈঠক এবং নির্বাচনী সভা-সমাবেশও নির্বাচনের মাঠে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের চেয়ে নারী ভোটারের ভোটই বেশি পড়ে। কাস্টিং ভোটের প্রায় ৬০% ভোটই নারী ভোটারের। কৌশলগত কারণেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের গুরুত্ব দেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। এমনিতেই নারীর ক্ষমতায়নে এটা জরুরি বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা। আবার ভোটারদের বড় একটি অংশ নারী। আর তারা যে স্বাভাবিকভাবেই নারী প্রার্থীদের প্রতি ঝুঁকবেন এটাই স্বাভাবিক। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০ থেকে ৫০-এ উন্নীত হয়েছে। সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ২২ জন নারী জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন। সংসদের চারটি উচ্চপদের সবগুলোতেই নারীরা মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দেখাচ্ছেন। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নারীদের জয়জয়কার অবস্থায় পরিণত হয়েছে। তবে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে আরো বেশি চমক আসছে। প্রায় অর্ধ শতাধিক আসনে ভোটযুদ্ধে দলীয় মনোনয়ন পাবেন নারী নেত্রীরা। এদের অনেকেই ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগের নেত্রী। আবার বর্তমান জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত এমপিরাও রয়েছেন এ তালিকায়। দলীয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এদের মধ্যে জনপ্রিয় প্রার্থীরাই গুরুত্ব পাবে সবচেয়ে বেশি।

বিভিন্ন আসনেই সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতা-কর্মীদের পছন্দের প্রার্থীতে পরিণত হয়েছেন অনেকেই। তারা মনোনয়নের দৌড়েও বেশ এগিয়ে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তালিকায় আছেন রংপুর-৬ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, গাইবান্ধা-২ আসনের মাহাবুব আরা বেগম গিনি, যশোর-৬ আসনের ইসমত আরা সাদেক, বাগেরহাট-৩ আসনের হাবিবুন নাহার, বরিশাল-৫ আসনে বেগম জেবুন্নেছা আফরোজ, শেরপুর-২ আসনে মতিয়া চৌধুরী, মানিকগঞ্জ-২ আসনে মমতাজ বেগম, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে সাগুফতা ইয়াসমিন, গাজীপুর-৪ আসনে সিমিন হোসেন রিমি, গাজীপুর-৫ আসনে মেহের আফরোজ, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, চাঁদপুর-৩ আসনে ডা. দীপু মনি, সুনামগঞ্জ-২ আসনে জয়া সেনগুপ্তা, মৌলভীবাজার-৩ আসনে সৈয়দা সায়রা মহসীন। আবার লক্ষীপুর-৪ আসনে আছেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, চাঁদপুর-৫ আসনে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নূরজাহান বেগম মুক্তা, ঢাকা-১৪ আসনে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সাবিনা আক্তার তুহিন এবং জামালপুর-২ আসনে মাহজাবিন খালেদ, হবিগঞ্জ-১ আসনে কেয়া চৌধুরী এবং ফেনী-২ আসনে রোকেয়া প্রাচী, জামালপুর -৫ আসনে মারুফা আক্তার পপি।

নোয়াখালী-১ আসন থেকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবার মনোনয়ন চাইতে পারেন। আসনটি আওয়ামী লীগকে পেতে হলে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চান এলাকাবাসী। তাছাড়া এ এলাকায় বেশ জনপ্রিয় তিনি।

চাঁদপুর-৩ আসনে ডা. দীপু মনি এলাকায় রয়েছে তার বেশ জনপ্রিয়তা। তাছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হিসেবে বেশ পরিচিত বর্তমান এমপি ও সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাকে দেশ-বিদেশে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে দেখা যায়। তিনি দলের উন্নয়ন প্রচারণায় অনেকটা এগিয়ে।

জামালপুর-২ আসনে মুক্তিযোদ্ধা ও ৭৫ এর নভেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত খালেদ মোশাররফের মেয়ে মাহজাবিন খালেদকে নৌকা প্রতীক দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আছে। তিনি বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য।

জামালপুর-৫ আসনে বিবেচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য, ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং হাসুমনি পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা মারুফা আক্তার পপি। তিনি শেখ হাসিনাকে নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান হাসুমনির পাঠশালা করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। তাছাড়া ক্লিন ইমেজের নেত্রী হিসেবেও তার বেশ সুনাম আছে।

গাজীপুর-৫ আসনে মেহের আফরোজ চুমকি মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তার নির্বাচনী এলাকাসহ গাজীপুরের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি এখন নির্বাচনী এলাকার গ্রামে গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন।

নেত্রকোনা-৩ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল। অপু উকিল এখন নিয়মিত এ আসনে গণসংযোগ করে তৃণমূলে তার পক্ষে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি করছেন। নড়াইল-১ আসনে নির্বাচন করতে চায় সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী। তিনি আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন। এখন তিনি সরাসরি নির্বাচন করতে এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে তথ্যপ্রতিমন্ত্রী অ্যাড. তারানা হালিম এমপি ভোটে লড়তে চান। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের জন্য ভোট চাইতে এলাকায় সময় দিচ্ছেন বেশি।

বেশিরভাগ নারী প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকল প্রার্থী অধির আগ্রহে চেয়ে আছেন দলের সভানেত্রীর দিকে। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে মেনে নিবেন তারা। তারা মনে করছেন শেখ হাসিনার সরকার নারীবান্ধব সরকার। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী নারীদের উন্নয়ন ছাড়া সমগ্র উন্নয়ন সম্ভব না। আর সেই উন্নয়নের অংশীদার হতে চান তারা।

 

সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *