টিকলেন না মুমিনুল

ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়ে মুমিনুল আবার আউট হলেন বাজে শটে। আরেকটু শঙ্কা ঘিরে ধরল বাংলাদেশকে।

প্রথম বলেই সিকান্দার রাজাকে চার মেরেছিলেন মুমিনুল। রাজাকেই পরে চার মেরেছেন মাথার ওপর দিয়ে। কিন্তু এবার আউট হলেন কাইল জার্ভিসের বলে, যে বলটি না খেলে ছাড়তে পারতেন অনায়াসেই।

লেংথ থেকে একটু বাড়তি লাফানো বল বেরিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পজিশনে না গিয়েই ব্যাট পেতে দিলেন মুমিনুল। কানাল লেগে বল এল স্টাম্পে।

মুমিনুল ফিরলেন ৯ রানে। ৩২১ রান তাড়ায় বাংলাদেশ ২ উইকেটে ৬৭।

রিভিউ নিয়ে লিটনকে ফেরাল জিম্বাবুয়ে

লিটন দাসকে এলবিডব্লিউ করে বাংলাদেশের শুরুর জুটির প্রতিরোধ ভেঙেছেন সিকান্দার রাজা।

অফ স্পিনারের বলের লেংথ বুঝতে ভুল করেন লিটন। স্টাম্পের সাদামাটা বল পুল করতে গিয়ে লাইন মিস করে ব্যাটে খেলতে পারেননি ওই ওপেনার। আম্পায়ার এলবিডব্লিউ না দিলে রিভিউ নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বল লাগতো মিডল স্টাম্পে। পাল্টায় সিদ্ধান্ত, ৫৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

৭৫ বলে তিন চারে ২৩ রান করেন লিটন। ক্রিজে ইমরুল কায়েসের সঙ্গী আরেক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। জয়ের জন্য বাংলাদেশের চাই আরও ২৬৫ রান।

জীবন পেয়ে ইমরুল-লিটন জুটির পঞ্চাশ

দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুর জুটিতে বাংলাদেশ পেল সিলেট টেস্টে নিজেদের প্রথম পঞ্চাশ রানের জুটি। সতর্ক ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস।

২১তম ওভারের শেষ বলে ইমরুলের সিঙ্গেলে পঞ্চাশে যায় উদ্বোধনী জুটির রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জুটি ছিল ৩০ রানের।

জুটির রান পঞ্চাশ ছোঁয়ার আগে দুটি সুযোগ হাতছাড়া করে জিম্বাবুয়ে। পঞ্চদশ ওভারের শেষ বলে আসে প্রথম সুযোগ। সিকান্দার রাজার বল বাড়তি টার্ন করে লিটনের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে ক্যাচ যায় শর্ট লেগে। কিন্তু ব্রায়ান চারি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। সে সময় ২১ রানে ব্যাট করছিলেন লিটন।

চার ওভার পর আবার আসে সুযোগ। কাইল জার্ভিসের বলে ঠিক মতো কাট করতে পারেননি ইমরুল কায়েস। প্রথম স্লিপে থাকা হ্যামিল্টন মাসাকাদজা মুঠোয় জমাতে পারেননি ক্যাচ। উল্টো বাউন্ডারি পেয়ে যান ইমরুল। বাঁহাতি এই ওপেনার তখন ছিল ২২ রানে।

বাংলাদেশের সামনে রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ

তৃতীয় দিন কিছু বল বাউন্স করেছে, কিছু বাড়তি টার্ন করেছে। কিছু বল গেছে সোজা, কিছু নিচু হয়েছে। চতুর্থ দিন বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাগতিক কোচ স্টিভ রোডস মনে করেন, এই চ্যালেঞ্জে জেতার সামর্থ্য আছে তার শিষ্যদের।

আগের দিন আলোকস্বল্পতায় ১৩.৫ ওভার খেলা কম হওয়ায় বুধবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে নির্ধারিত সময়ের আধ ঘণ্টা আগে সকাল সাড়ে নয়টায়।

৩২১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় তৃতীয় দিন শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৬ রান করে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য শেষ দুই দিনে তাদের প্রয়োজন আরও ২৯৫ রান।

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৫ তাড়ায় জয় টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রান তাড়ার রেকর্ড। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় রান তাড়া ২০০৮ সালে ৩১৭ করে নিউ জিল্যান্ডের জয়। এবার জিততে পারলে তাই একইসঙ্গে দুটি রেকর্ড নতুন করে গড়বে বাংলাদেশ।

টানা সাত ইনিংসে দুইশ রানের নিচে অলআউট হওয়া দলের জন্য এটা যথেষ্ট কঠিন কাজ। তবে অসম্ভব নয়।

তৃতীয় দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ২৮২

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৪৩

জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ১৮১

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩২১) ১০.১ ওভারে ২৬/০ (লিটন ১৪*, ইমরুল ১২*; জার্ভিস ৫-২-১১-০, চাটারা ৫-১-১৫-০, রাজা ০.১-০-০-০)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *