#  নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যােগ প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে শীতার্ত ছিন্নমুল মানুষের মাঝে কম্বল বিতরন #  বানিয়াচংয়ে হাছনপুরী হুজুরের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল #  সিটি নির্বাচনে ‘ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম’ এর পক্ষ থেকেপাঁচ শতাধিক পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবে #  ১লা ফেব্রুয়ারী সাংসদ মজিদ খানের সংবর্ধনা : বানিয়াচংয়ে আসছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী #  আইসিজের আদেশে মিয়ানমারের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া #  শাহবাগে আন্দোলনকারীদের গুলি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার ব্যবসায়ী #  আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হবে : কাদের #  বাংলাদেশকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী #  সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেসে আগুন #  সব ধরনের ক্যান্সার কোষ ধ্বংসের কৌশল আবিষ্কার #  নবীগঞ্জে মাদরাসা মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড : ৯ টি দোকান পুড়ে ছাঁই #  বানিয়াচংয়ে ঠাকুরঘরে চুরি ॥ নগদ টাকা স্বর্ণালংকারসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট #  বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা উদ্বেগজনক : টিআইবি #  শাল্লার দাঁড়াইন নদী অবমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন #  মির্জাচরে মাটিকাটা নিয়ে সংঘর্ষে একজন নিহত #  নবীনগরে কাদিয়ানিদের বিরুদ্ধে হেফাজতের মিছিল #  কাশ্মির সমস্যার সমাধানে ভারত-পাক মধ্যস্থতা করতে চান ট্রাম্প

নবীনগরে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে কৌতুহল

Bbaria

সঞ্জয় শীল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আসন নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে দুটি প্যানেলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ‘নির্বাচনের মাধ্যমে নাকি সমঝোতার মাধ্যমে’ কমিটি গঠন করা হবে এ নিয়েই কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। আর এ কৌতুহলের পেছনে ক্ষমতাসীন দলের ‘হাত’ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ৩১ জানুয়ারি সম্ভাব্য নবীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে গত ৩ জানুয়ারি ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। নির্বাচনে অংশ নিতে ওইদিন প্রধান শিক্ষক এটিএম রেজাউল করিম সবুজ ও  প্রধান শিক্ষক মাহমুদ হাসানের নেতৃত্বাধীন ‘সবুজ-মাহমুদ’ এবং প্রধান শিক্ষক মো. আবু কাউছার ও সহকারি শিক্ষক মো. মনির হোসেনের নেতৃত্বাধীন ‘কাউছার-মনির’ নামে দুটি প্যানেল আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র জমা করেন। কিন্তু ওইদিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরেকটি প্যানেল (সরকার সমর্থক) তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারেনি। আর এ নিয়েই শুরু হয় নানা দৌড়ঝাঁপ। মনোনয়নপত্র জমাদানকারী দুটি প্যানেলের নেতারা অভিযোগ করেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৃতীয় প্যানেলটি মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পেরে এরা স্থানীয় এমপির দ্বারস্থ হন। আর তখনই মনোনয়ন জমাদানকারী দুই প্যানেলের নেতৃবৃন্দকে স্থানীয় ডাকবাংলোতে ডেকে পাঠান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম। ডাক বাংলোতে তখন এমপি এবাদুল করিম বুলবুল অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে মনোনয়ন জমা দেওয়া দুই পক্ষকে তাদের মনোনয়নপত্র দ্রুত প্রত্যাহার করে ‘নির্বাচনের পরিবর্তে সমঝোতার’ মাধ্যমে কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কাউছার-মনির প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. আবু কাউছার বলেন, ‘এমপি মহোদয়ের উপস্থিতিতে হালিম ভাই আমাদেরকে ডাকবাংলোতে ওইদিন ডেকে নিয়ে যান। পরে দুই প্যানেলের সবাইকে একটি অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করে আমরা ইলেকশান করতে চাই না এই মর্মে একটি আবেদন এমপি মহোদয়ের বরাবর লিখে উপজেলা চেয়ারমানের কাছে সেটি জমা দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে আমরা সেটি করবো কিনা কাল (আজ মঙ্গলবার) সিদ্ধান্ত নেব। তবে ‘সবুজ-মাহমুদ’ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী রেজাউল করিম সবুজ বলেন, ‘হালিম ভাই ডেকে ‘সমঝোতা’র কথা বলেছেন ঠিকই। তবে মনোনয়ন জমা দেয়া প্যানেলের ৫১ জন প্রার্থীর স্বাক্ষর তো আর হুট করে নেওয়া যাবে না। আমাদেরও সকলের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে। তবে এমপি মহোদয় যা সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটি আমি ব্যক্তিগতভাবে মেনে নেব। কিন্তু ওরাতো (কাউছার মনির প্যানেল) এখনো অঙ্গীকারনামা জমা দেয়নি। ওরা আগে জমা দিক, এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’ এ বিষয়ে এম এ হালিম বলেন, ‘ওরা সবাই মূলত সমঝোতা চাচ্ছে। সেজন্য দুই পক্ষই আমার কাছে ছয় মাস আগে থেকে যোগাযোগ করেছেন। ওরাই বলেছে, ইলেকশান হলে টাকা খরচ হবে, প্যারেশানি বাড়বে। তাই সমন্বয় করে আমাদের কমিটি আপনারাই করে দিন। তাই  তাদেরকে এ বিষয়ে আগে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে বলেছি। এখন ওরা চাইলে সমঝোতা হবে না হলে ইলেকশানই হবে।’ এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘ওইদিন এমপি মহোদয় কারো ওপর কোনো ফোর্স করেননি। শিক্ষক নেতারাই এমপি মহোদয়ের কাছে গিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ‘সমঝোতা কমিটি’ করে দিতে বলেছেন। তাই দুই পক্ষ আগে সমঝোতায় রাজী থাকলে, এমপি মহোদয় কাগজপত্র জমা দিতে বলেছেন। তবে ওরা রাজী না থাকলে, সমঝোতা হবে না।’ তবে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক সাধারণ শিক্ষক নির্বাচনের মাধ্যমেই নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, আগামী ৩১ জানুয়ারি সম্ভাব্য নবীনগর উপজেলা প্রাথমিক সমিতির নির্বাচনে মোট ১ হাজার ৩১২ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ৯ জানুয়ারি।

Print Friendly, PDF & Email