#  বানিয়াচঙ্গে প্রতিবন্ধীর ভাতা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ প্রমানিত ॥ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ইউপি সদস্য ও সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে #  নবীনগরের প্রতিবন্ধী জিতেন্দ্র সরকার সমাজের দয়ালু মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন #  ৬ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ মুক্ত দিবস ১৯৭১ সালে এইদিনে নবীগঞ্জ মুক্ত হয়েছিল #  নবীগঞ্জে ২৮তম জাতীয় প্রতিবন্ধি দিবস পালিত #  ঘুষের টাকাসহ সাব-রেজিস্ট্রার আটক #  প্রতি উপজেলায় প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্র চালু হবে : প্রধানমন্ত্রী #  খালেদা জিয়ার জামিন দাবিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের এজলাসে অবস্থান #  বানিয়াচঙ্গে প্রতিবন্ধীর ভাতা ছিনিয়ে নিলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ইউপি সদস্য #  রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হবে : সেনাপ্রধান #  কেজিতে ৯ টাকা কমানো হয়েছে সারের দাম : কৃষিমন্ত্রী #  নবীনগরে চলন্ত ট্র্যাক্টর থেকে পড়ে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু #  মেলান্দহে টিকিট কালো বাজারির দায়ে দুই ভাইর জরিমানা #  বিকালে আ’লীগের জাতীয় কমিটির সভা #  শিক্ষক লাঞ্চনাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে বানিয়াচং জনাব আলী কলেজ উত্তাল

বরগুনায় পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান ॥ ঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী!

BARGUNA (BK) PIC (1)

বীরেন্দ্র কিশোর, বরগুনা : বরগুনার আমতলী উপজেলার এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান চলছে। পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করেছে ওই ভবনে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবী শিক্ষার্থী অভিভাবকরা।
বিদ্যালয় সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীও সংখ্যা আট’শ। শুরুতে একটি টিনের ছাউনির ঘরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চললেও ১৯৮৫ সালে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০০০ সালে ওই ভবনের ছাদে নিজেদের অর্থায়নে আরও একটি আধাপাকা টিন সেড ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই একতলা ভবনের বয়স ৩৪ বছর। বেশী পুরাতন হওয়ায় ২০১০ সাল থেকে ওই ভবনের পিলার, ভীম ও পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। এতে পাঠদান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুশফিকুর রহমান ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষনা করে পাঠদান বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু স্থান সংঙ্কুলান না হওয়ায় গত দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যান স্কুল কর্তৃপক্ষ। গত ২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম ওই বিদ্যালয় ভবন পরিদর্শন করে ছাদ অপসারন করা প্রয়োজন মর্মে প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনে প্রকৌশলী আরো উল্লেখ করেছেন দ্রুত ছাদ ও ছাদের উপর নির্মিত আধা পাকা ভবন অপসারন না করা হলে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। ওই প্রতিবেদনের আলোকে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. মনিরা পারভীন গত ৩ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ছাদ ও ছাদের ভবন অপসারনের জন্য বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটি ওই ছাদ ও ছাদের ভবন অপসারন করেনি। সদ্য সমাপ্ত জেএসসি পরীক্ষা ওই ঝুকিপূর্ণ ভবনেই শেষ করেছেন। এদিকে ভবন না থাকায় এবং আসন সংকুলান না হওয়ায় ওই পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নিচ্ছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আটশতাধিক শিক্ষার্থী ওই ঝুকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নেয়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। দ্রুত পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস বন্ধের দাবী জানিয়েছেন তারা।
রবিবার সরেজমিনে আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখাগেছে, ভবনের পিলার, ভীম ও পলেস্তারা ধ্বসে পড়ছে। ভবনের ছাদের উপর আধাপাকা টিন সেডের ঘরের উপরে টিনের চালা নেই। ভগ্ন অবস্থায় পড়ে আছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এহতেসামুল হক সামস, আনিকা, আলভি, সিয়াম ও ঐশর্য্য জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস করতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবী জানাই।
আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাশির উদ্দিন বলেন, আসন সংকুলন না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন এ বিদ্যালয়ে দুটি ভবন। তার একটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। একটি ভবনে ক্লাস নিতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান করাতে হচ্ছে। ভবন অত্যধিক ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কথা বিবেচনা করে বরিবার থেকে ক্লাস বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু কোথায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেব তা ভেবে পাচ্ছি না।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. মনিরা পারভীন বলেন, ভবনটি ঝুকিপূর্ণ বিধায় পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। এ অবস্থা উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email