Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
 #  আমিরাতের শ্রমবাজার খুলে দেয়ার ইঙ্গিত #  নবীগঞ্জে এমপি মিলাদ গাজীকে সংবর্ধনা #  বরগুনায় র‌্যাবের অভিযানে কারেন্ট জাল জব্দ #  বরগুনায় অস্ত্রসহ ১৪ মামলার আসামি গ্রেফতার #  রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজ করছে চীন : রাষ্ট্রদূত #  হোলে আর্টিজান মামলার রায় ২৭ নভেম্বর #  নবীনগরে লতিফ এমপি’র ১৮ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত #  বিএনপির চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে #  ৬০ বছরই থাকছে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স

বানিয়াচংয়ে তানভীর হত্যাকারীকে বাঁচাতে আপোষে রফাদফার চেষ্ঠা

452471_14 copy

জীবন আহমেদ লিটন, বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) ॥ বানিয়াচংয়ের এ এইচ এম কিন্ডার গার্টেন এর নার্সারীরর ছাত্র শাহরিয়ার তানভীরকে মাইক্রোবাসের চাকায় পৃষ্ঠ করে হত্যাকারী ঘাতক চালক সাদ্দামকে বাঁচাতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি মহল। বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে রফাদফার চেষ্ঠা চালানো হচ্ছে। কিন্তুু এই নির্মম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত চালকের শাস্তির দাবীতে সোচ্চার নিহতের সহপাঠী নিস্পাপ শিশুরা। আর এলাকবাসী ও শিক্ষকবৃন্দের দাবী একটি নিস্পাপ শিশুকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে যদি ঘাতক চালক টাকার বিনিময়ে বেঁচে যায় তাহলে সমাজের অন্যান্য শিশুরাও নিরাপদ থাকবেনা। অপরদিকে অন্যান্য চালকরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
নিহত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার তানভীরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরজমিনে গেলে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মন্ডলী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হয়। তাঁদের একটাই দাবী কোন আপোষ নয়। ঘাতকের দৃষ্টান্তমুল শাস্তি দেওয়া হোক।

বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ রঞ্জন কুমার সামান্ত জানান নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এষনও কোন মামলা দায়ের হয়নি তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।

নিহতের মা শেখ সেবিনা আক্তার জানান আমি নির্বাক ও অসুস্থ। এলাকার গ্রাম্য মাতব্বরা বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন শুনেছি। কিন্তুু আমি চাই আমার একমাত্র শিশুপুত্র হত্যাকারী ঘাতক চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি হোক।

নিহতের মামা শেখ বাবুল মিয়া জানান আপোষ নিস্পত্তির কথা বলে সময় অতিবাহিত করা হচ্ছে। ঘাতক চালক দিব্বি ঘুরাফেরা করছে। নিস্পাপ শিশু হত্যাকারী চালকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হোক সেটি আমরা চাই। তিনি বলেন আর বিলম্ব নয় দ্রুত মামলা দায়ের করা হবে।

উল্লেখ্য গত ৩০ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার দুপুরে গরীব হোসেন মহল্লা থেকে যাত্রী নিয়ে রওয়ানা দিচ্ছিল চালক সাদ্দাম। এসময় নিজ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন দোকানে বিস্কুট নিতে আসছিল শিশু তানভীর। জনবহুল গ্রামীন সড়ো পাকা রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় মাইক্রোবাসের সামনে আটকে পরে তানভীর। এসময় যাত্রীরা গাড়ি থামিয়ে শিশুটিকে বাঁচানোর অনুরোধ করেন চালককে। কিন্তুু চালক কারও কথায় কর্নপাত না করে গাড়ীতে জুলন্ত শিশুর দেহ পিচঢালাইয়ে পৃষ্ট করতে করতে আরো দ্রুত গতিতে প্রায় ৩ শত গজ দূরে যায়। সেখানে একটি রোড ডিভাইডারে ঝাকুনী খেয়ে তানভীরের রক্তাক্ত দেহ মাটিতে লুটিয়ে পরলে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তুু ওইখানেও শিশু তানভীরের চিকিৎসা করার মত কোন ব্যবস্থা না থাকায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া হলে পথিমধ্যেই শিশু তানভীর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায় গরীব হোসেন মহল্লার শেখ তাহির মিয়ার কন্যার বিয়ে হয় দেওয়ান দিঘীর উত্তর পাড় মহল্লার আতাবুর মিয়ার সাথে। তাদের কোল জুড়ে একিট পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তুু কিছুদিন যেতে না যেতেই তাদের সংসারে দেখা দেয় বিশৃংখলা। একপর্যায়ে পুত্রকে নিয়ে পিত্রালয়ে বসবাস শুরু করেন তানভীরের হতভাগিনী মা। তিনিই তাঁর পুত্রকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে দিনরাত সেলাইয়ের কাজ করে উপার্জন করে কাবার যোগানোর পাশাপামি পাশর্^বর্তী এএইচএম কির্ডার গার্ডেনে পড়াশোনার জন্য ভর্তি করান। কিন্তুু তার বুকবাঁধা স্বপ্ন নিমেষেই কেড়ে নেয় ঘাতক চালক সাদ্দাম। স্কুল থেকে ফিরে আসে কোমলমতি শিশু তানভীরের রক্তমাখা লাশ।
ঘাতক চালক সাদ্দামের ফাঁসির দাবীতে পরদিন ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় স্থানীয় গরীব হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এলাকাবাসী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। এতে অংশ গ্রহন করেন শত শত মানুষ।

Print Friendly, PDF & Email