Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
 #  বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণ নবায়ন আবেদনের সময় বাড়ছে #  অনুমতি না পাওয়ায় ভোলায় আজকের সমাবেশ স্থগিত #  ভোলায় নিহত ৪, পরিস্থিতি এখনো থমথমে #  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন : কঠোর অবস্থানে মন্ত্রণালয় #  ভোলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন ও পুলিশের বক্তব্য #  ঢাবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনে কেন যেতেন জি কে শামীম #  পদ হারালেন ওমর ফারুক #  ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ কারাগারে #  গণভবনে প্রবেশের সুযোগ পাননি যুবলীগের শীর্ষ ৪ নেতা #  ভাঙ্গা ঘরে চাদের আলো মাহেন্দ্র চালকের মেয়ে ‘কনা’ পেয়েছেন মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ

লাইসেন্সিং পরীক্ষা দিতে না পারায় চাকরি পাচ্ছে না ১০ হাজার নার্স

nurse

হামিম উল কবির : লাইসেন্সিং পরীক্ষা দিতে পারছেন না বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে পাসকৃত প্রায় আট হাজার ডিপ্লোমা নার্স। ফলে চাকরিও হচ্ছে না তাদের। পরীক্ষা দিতে না পেরে তাদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। নার্সিং কাউন্সিলের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে নার্সদের ‘বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল’ থেকে পরীক্ষা দিয়ে রোগীদের সেবার জন্য লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু নার্সিং কাউন্সিল উচ্চ আদালতের ‘স্থগিতাদেশের’র কারণে ডিপ্লোমা নার্সদের পরীক্ষা নিতে পারছে না।
উল্লেখ্য, নার্সিং কাউন্সিল বছরে দু’বার লাইসেন্সিং পরীক্ষা নেয়। প্রথম বার ফেব্রুয়ারিতে যারা অকৃতকার্য হন পরবর্তীতে এদেরসহ নতুনদের সমন্বয়ে পরীক্ষা হয়ে থাকে ডিসেম্বরে। কিন্তু চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং’ কোর্সের স্বীকৃতি ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য ‘পেশাগত সনদ বা লাইসেন্স’ পেতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি দেন। নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার একই বছরের ১৯ অক্টোবর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর ‘কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরিচালিত ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্সটি আইনের আওতাধীন নয়’ বিধায় তাদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন।
নার্সিং কাউন্সিল থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে জানায়, ‘বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের আইন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের নীতিমালা অনুযায়ী নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন প্রদান করে। অতঃপর কাউন্সিল যথাযথ প্রক্রিয়ায় স্বীকৃতি অথবা অধিভুক্তি প্রদান করে।’ নার্সিং কাউন্সিল কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিনা অনুমতিক্রমে কোর্স চালুর বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া এবং নার্সিং শিক্ষা কারিকুলাম পরিচালনা যথাযথ বিধি পালন না করায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ‘নার্সিং কোর্স চালু এবং পরিচালনা’ করে বাংলাদেশের জনগণের কাছে নার্সিং শিক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড প্রথমে ২০০৯ সালে ‘ডিপ্লোমা ইন পেসেন্ট কেয়ার টেকনোলজি’ নামে তিন বছরের একটি কোর্স চালু করে। পরে ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর কারিগরি বোর্ডের ১৪৪তম সভায় কোর্সটিকে ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং টেকনোলজি’ নামকরণ করে তিন বছর থেকে চার বছরে উন্নীত করে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি প্রদান করে জানায় যে, ‘ডিপ্লোমা ইন পেসেন্ট কেয়ার টেকনোলজি’ থেকে পাসকৃত শিক্ষার্থীরা ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং টেকনোলজি’ কোর্সের শিক্ষার্থীদের মতো সমমানের কাজ করতে সক্ষম। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এরপর ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারের কাছে কারিগরি বোর্ড থেকে পাসকৃত ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং’ কোর্সের ছাত্রছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য লাইসেন্সিং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানের দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল থেকে কারিগরি বোর্ডের দাবি পূরণ না করে ‘লাইসেন্সিং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া সম্ভব নয়’ বলে জানিয়ে দেয়। এতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং উচ্চ আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের লাইসেন্সিং পরীক্ষায় স্থগিতাদেশ দেন। এ কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল অনুমোদিত ডিপ্লোমা নার্সরা লাইসেন্সিং পরীক্ষা দিতে পারেননি।
কারিগরি বোর্ডের ‘ডিপ্লোমা ইন পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি’ কোর্সের শিক্ষার্থীরা কেন রেজিস্ট্রেশন অথবা লাইসেন্স পাবে না’ জানতে চাইলে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রাশিদা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের আইনের আওতায় স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে এই কাউন্সিলের অনুমোদিত কারিকুলাম অধ্যয়ন শেষে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একজন নার্স রেজিস্ট্রেশন পেতে পারে।’ এর বাইরে অনুমোদনহীন কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো কোর্সকে নার্সিং কাউন্সিল স্বীকৃতি দিতে পারে না। কারণ এই প্রতিষ্ঠান সংবিধিবদ্ধ আইনের অধীন।’ রাশিদা খাতুন এ বিষয়টি নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।
তবে নার্সিং কাউন্সিলের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, নার্সিং কোর্স পড়াতে হলে হাসপাতালের প্রয়োজন। তিন বছরের ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্সে একজন শিক্ষার্থীকে মোট পাঁচ হাজার ৬৪ ঘণ্টা খাটতে হয়। এর মধ্যে দুই হাজার ৮৮ ঘণ্টা থিওরি পড়তে হয়। ৫২৮ ঘণ্টা ল্যাবরেটরিতে সময় ব্যয় করতে হয় এবং অবশিষ্ট দুই হাজার ৪৮৮ ঘণ্টা ব্যয় করতে হয় হাসপাতালে রোগীর সাথে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের কোনো হাসপাতাল ওয়ার্ক নেই। একজন নার্স চিকিৎসকের পরই রোগীর জন্য অপরিহার্য। যথাযথ ব্যবহারিক শিক্ষা নিতে না পারলে ওই নার্সের অধীন রোগীতো সুস্থ হবেই না বরং রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। কোনো অভিভাবকই চাইবেন না তার স্বজনরা অদক্ষ নার্সের হাতে পড়ে মারা যাক। আইনের মাধ্যমে গঠিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল হাসপাতালের অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো নার্সকে রেজিস্ট্রেশন দিতে পারে না।
নার্সিং কাউন্সিলের ওই কর্মকর্থা বলেন, ‘২০১৬ সালের আইন অনুযায়ী ২০ জন নার্সিং শিক্ষার্থীর জন্য ১০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল প্রয়োজন। যাদের হাসপাতাল রয়েছে তাদেরকে নার্সিং কাউন্সিল নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিয়ে থাকে আবেদন করলে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন কোর্সের শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষার জন্য হাসপাতাল প্রয়োজন। হাসপাতাল ছাড়া এবং যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কোনো কোর্সের অনুমোদন দেয়া উচিত নয় বলে নার্সিং কাউন্সিলের ওই কর্মকর্তা জানান।
উল্লেখ্য, নার্সিং কাউন্সিলের লাইসেন্স ছাড়া কোনো নার্স কোথাও রোগীর সেবার উদ্দেশ্যে চাকরি করতে পারেন না। এ বিষয়টা ডাক্তারদের মতোই। এমবিবিএস পাস করার পর বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) লাইসেন্স ছাড়া তারা রোগীর চিকিৎসা করতে পারেন না। নার্সদের ব্যাপারটাও একইরকম।

Print Friendly, PDF & Email