#  করোনা: ক্ষতি পোষাতে তামাকপণ্যের দাম বাড়ান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আত্মা’র তামাক-কর ও দাম বৃদ্ধি বিষয়ক বাজেট প্রস্তাব #  করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বানিয়াচংয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে এমপি মজিদ খানের ত্রাণ বিতরণ #  আজমিরীগঞ্জে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে টাস্কফোর্সের অভিযান #  করোনা পরিস্তিতে শাল্লায় চলছে মডেল মসজিদ নির্মান,অনিয়মের অভিযোগ #  করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে শাল্লায় সেনাবাহিনীর টহল #  নবীগঞ্জে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এএসপির অভিযান #  বানিয়াচংয়ে করোনা প্রতিরোধে করনীয় বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রচারণা #  বানিয়াচংয়ে মোবাইল কোর্ট: ৭ ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ড #  করোনা ভাইরাস আতংক ॥ বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোগী শূন্য #  খালেদা জিয়ার মুক্তিতে লাভবান দুই পক্ষই #  বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দিনব্যাপি সচেতনামূলক কর্মকান্ড #  শাল্লার সবকটি প্রবেশদ্বারে হাত ধোয়ার বেশিন স্থাপন #  আজমিরীগঞ্জে বাস উল্টে আহত ৩০ #  কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী #  দেশবাসীকে সবাধান ও সচেতন থাকার আহবান খালেদা জিয়ার #  বানিয়াচংয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের জনসচেতনামূলক প্রচারনা ও মাস্ক বিতরন

শাল্লায় হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণে নীতিমালা মানছে না পিআইসিরা

Salla

শাল্লা(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি: চলতি বছর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে সুনামগঞ্জের শাল্লায় কাজের নীতমালার ধার ধারছে না পিআইসি’র লোকজন এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট হাওর পাড়ের কৃষকদের। পিআইসি গঠনের নানা অনিয়ম  থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত বাঁধের কাজে সঠিক তদারকির অভাবসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তাদের। এবছর সংশ্লিষ্ট হাওরের সাধারণ কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত বোরো ফসল নিয়ে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। তারা এও জানিয়েছেন, এবারের মতো গত দু’বছর এতো লুটপাট হয়নি। বাঁধ নির্মাণ কাজের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশসহ অকাল বন্যা ফসলহানির শঙ্কা করছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, এবছর বাঁধ নির্মাণ নয়, এবছর হরিলুটের বছর। 
অপরদিকে একটি পিআইসি’র সভাপতি নিজেই বলেছেন এসব স্থানে বাঁধের কোনোই প্রয়োজন নেই। তিনি আরো বলেন, আমার পিআইসি থেকে শুরু করে প্রায় ৪/৫ কিলোমিটার স্থানে কয়েকটি ছোট ছোট ভাঙ্গা আছে, ওইগুলোতে মাটি দিলেই চলতো। কিন্তু সরকার আমাদের পিআইসি দিয়েছে, তাই আমরা মাঠি ফেলছি। এই কথাগুলো বলেন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের কালিকোটা হাওর উপ-প্রকল্পের ৭৪নং পিআইসি’র সভাপতি আব্দুল হামিদ।
৭৪নং পিআইসি’তে থাকা বড়গাঁও গ্রামের রেজান মিয়া বলেন, আমরা যেখানে দাড়িয়ে আছি, এখান দিয়ে পানি ঢোকার কোনো কথাই উঠে না। সামনে যে ভাঙ্গাটি দেখা যাচ্ছে শুধু তাতেই মাঠি ফেললে হতো।
৭৫নং পিআইসি’র সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, ৪/৫ জন শ্রমিক বাঁধের উপর ভাগ সমান করছেন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওই বাঁধে কোনোরূপ দুরমুজ করা হয়নি। সম্পূর্ণ বাঁধটি বড় বড় ঢিলা মাটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। বৃষ্টি হলেই তা ধসে যেতে পারে বলেও জানান তারা। এমন পিআইসি’র সভাপতি আব্দুল রূপের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী আমাদের কাজ করা সম্ভব নয়। কেন সম্ভব নয় প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বাঁধের মাটি আমাদের কিনে আনতে হচ্ছে। তাই কিছু মাটি বাঁধের গুড়া থেকেই কাটছি।
৭৭নং পিআইসি’র সরজমিনে দেখা যায়, বাঁধের স্থানে স্থানে কাদা মাটি দেয়া হয়েছে এবং বাঁধের গুড়া থেকেই ওইসব মাটি তোলা হয়েছে। পিআইসি’র সভাপতিকে বাঁধে না পেলেও সদস্য শবদর আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের বাঁধটি ছাড়া হিংরার দাইড় পর্যন্ত কোনো বাঁধেরই প্রয়োজন নাই। শুধু মাত্র ছোট ছোট ভাঙ্গাগুলোতে মাটি দিলেই চলে যেতো।
৭৮, ৭৯, ৮০, ৮১, ৭০, ৬৯, ৬৮, ৬৭, ৬৬, ৬৫ নং পিআইসি সমূহেও দেখা গেছে একই অবস্থা। ৬৭নং পিআইসি’র বাঁধের মাটি ওই বাঁধের গুড়া থেকে কেন কাটা হচ্ছে জানতে চাইলে পিআইসি’র সভাপতি মোঃ শহীদুজ্জামান বলেন, কি করবো, আশে-পাশে মাটি না থাকায় পুরাতন বাঁধের গুড়া থেকেই মাটি কাটছি। দূর থেকে মাটি আনলে খরচ কে দিবে ? তাই একাজ করছি।
৬৮নং পিআইসি’র সভাপতি নিলেন্দু চক্রবর্তী বলেন, আমি বাঁধে বেশী কাজ করতেছি। আমাকে বিলা হয়েছে বাঁধটি ১৩ফুট করতে, আমি ১৫ফুটের উপরে করছি। আমি এই এলাকার লোক তাই বেশী কাজ করছি। কিন্তু ওই বাধেও গত বছরের বাঁধ যথেষ্ট দৃশ্যমান রয়েছে। বাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে অতি ছোট একটি ভাঙ্গা রয়েছে যা ৫০হাজার টাকার মাটিতে বন্ধ করা সম্ভব  বলে জানান ইয়ারাবাদ গ্রামের মোঃ কবির মিয়া। তিনি আরো বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমাদের জেলা প্রশাসক ওই হাওরে আসছিলেন, কিন্তু ওইদিকের অপ্রয়োজনীয় বাঁধগুলো না দেখিয়ে দু’তিনটি বাঁধ দেখিয়ে হাওর পরিদর্শনের কাজ শেষ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন। তিনি দূ:খের সাথে বলেন, কি করবো ভাই, একে তো সমস্ত বাঁধগুলোই অপ্রয়োজনীয়। তার উপর পিআইসি’র লোকজন পুরাতন বাঁধের গুড়া কেটে বাঁধ দুর্বল করছে। বাঁধা-নিষেধ করলে তারা আমাদের কথার কোনো মূল্যই দিচ্ছে না। আমরা কি করবো, আমরা সাধারণ কৃষক, আমাদের কথা কে শুনে !
মোঃ কবির মিয়াসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো ৫/৭ জন কৃষক বলেন, কালিকোটা হাওরের স্থানে যেসব বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে তার অধিকাংশ পিআইসি’র সভাপতি, সেক্রেটারী ও সদস্যদের বাঁধ এলাকায় তাদের নিজস্ব জমিও নেই। তারা কিভাবে বাঁধ নির্মাণ কাজ পেয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুঝেননা ভাই, বর্তমান যুগে টাকায় সবই হয়।
বুধবার (৫ফেব্রুয়ারী) কালিকোটা হাওরের ৬০নং পিআইসি থেকে ৮১নং পিআইসি পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, কোনো বাঁধে বালি মাটি, কোনো কোনো টায় কাদা মাটি দিয়ে বাঁধের কাজ চলছে। আবার দু’একটিতে এখানো কাজই শুরু হয়নি। আর যেগুলোতে কাজ শুরু হয়েছে, সেগুলোতেও রয়েছে নানা অনিয়ম। হচ্ছেনা কম্প্রেকশন, সঠিক মাপে স্লোভ। গোটা কয়েক বাঁধে হালকা বাঁশের লাঠি দিয়ে চালানো হচ্ছে দুরমুজের কাজ। একটি বাঁধেও নেই সংশ্লিষ্ট কাজের প্রোফাইল। যা জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন থেকে বার বার মিটিংয়ের মাধ্যমে বলা হয়েছে। তাছাড়াও সারাদিন ঘুরে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট কাজের তদারকি টীমের কোনো সদস্যকে।
এবিষয়ে কথা বলতে পওর বিভাগ-২ এর শাখা কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাইয়ূমের সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে বাপাউবো শাল্লা উপজেলা কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল মুক্তাদির হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Print Friendly, PDF & Email