সংলাপ উন্নয়নে অবদান রাখবে

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংলাপে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন ১৪ দল এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংলাপ শুরু হয়।
ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সূচনা বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। আজকের এই সংলাপ বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি। এ ছাড়া এই দেশ আমাদের সবার। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি এটা বিচারের ভার আপনাদের ওপর ছেড়ে দেবো।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর ১০ মাস হতে চলল আমরা সরকারে। এই সময়ের মধ্যে দেশে কত উন্নয়ন করতে পেরেছি তা নিশ্চয়ই আপনারা বিবেচনা করে দেখবেন। এতে এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভালো আছে। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে। দিনবদলের যে সূচনা করেছিলাম সেই দিন বদল হচ্ছে। এটাকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা। আমাদের মহান নেতা জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা এ স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজকে সেই স্বাধীনতার সুফল যেন প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে পারে সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৫টায় ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসা থেকে রওনা হয়ে ৬টা ৪০ মিনিটে গণভবনে পৌঁছান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ঘোষিত ৭ দফা দাবি এবং ১১ দফা লক্ষ্য নিয়ে সংলাপে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সংসদ ভেঙে নির্বাচনকালীন সরকার এবং বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি অন্যতম এজেন্ডা বলে মনে করা হচ্ছে।
সংলাপে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে রয়েছেনÑ আওয়ামী লীগের জোট শরিক দলগুলোর নেতাসহ ২৩ জন প্রতিনিধি। তারা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, মো: আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, আবদুল মতিন খসরু, রমেশ চন্দ্র সেন, মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুস সোবহান গোলাপ, হাছান মাহমুদ, শ ম রেজাউল করিম, আনিসুল হক, দিলীপ বড়ুয়া, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু ও মইন উদ্দীন খান বাদল।
অন্য দিকে সংলাপে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধিদলে রয়েছেনÑ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সদস্যসচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক দুই সংসদ সদস্য এস এম আকরাম ও সুলতান মো: মনসুর আহমদ, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মহসিন মন্টু, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক এবং আ ও ম শফিক উল্লাহ।
প্রসঙ্গত, গত রোববার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে সাত দফা দাবি এবং ১১টি লক্ষ্য সংবলিত চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার সকালে সে চিঠির জবাব আসে ড. কামালের বাসায়। এরপর বিকল্পধারার পক্ষ থেকেও সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হয়। আজ শুক্রবার গণভবনে বিকল্পধারার সাথেও সংলাপে বসবে ১৪ দল। সংলাপ হবে জাতীয় পার্টির সাথেও।
রাজনীতির চলমান সঙ্কট উত্তরণে অনেকেই এ সংলাপকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন। তবে সংবিধানের মধ্যে থেকে আলোচনা হবে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছেন। ফলে এ সংলাপের সফলতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার সংলাপ চলছিল। সংলাপ শেষে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *