বরগুনায় হৃদয় হত্যাকান্ডে ২০ জনের নামে মামলা, গ্রেফতার-৭

বীরেন্দ্র কিশোর সরকার, বরগুনা : বরগুনায় হৃদয় হত্যাকান্ডে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৪-১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার দিকে বরগুনা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত হৃদয়ের মা মোসা. ফিরোজা বেগম।

রাত ১১টায় বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বরগুনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান হোসেন। তিনি বলেন, নিহত হৃদয়ের ওপর হামলার ঘটনার পরই আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাতজনকে আটক করি।

এরপর রাত সাড়ে ১০ টার দিকে নিহত হৃদয়ের মা ফিরোজা বেগম হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া সাতজনের নাম উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়াও এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত ১৪-১৫ জনকে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান হোসেন আরও বলেন, মামলা দায়ের করার আগেই সন্দেহভাজন হিসেবে আমরা যাদের গ্রেফতার করেছি তাদের নাম মামলায় উল্লেখ থাকায় মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু এ মামলায় সকল অভিযুক্তদের আমরা এখনও গ্রেফতার করতে পারিনি তাই তাদের নাম আমরা এখনই প্রকাশ করছি না।

এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া সাতজন হলেন, এক নম্বর আসামি নোমান কাজি (১৮), দুই নম্বর আসামি হেলাল মৃধা (২৬), ছয় নম্বর আসামি সাগর গাজি (১৬), সাত নম্বর আসামি ইমন হাওলাদার (১৮), আট নম্বর আসামি রানা আকন (১৬), ১২ নম্বর আসামি সফিকুল ইসলাম ঘরামি (১৫) এবং ১৫ নম্বর আসামি হেলাল ফকির (২১)। গ্রেফতারকৃতদের বুধবার (২৭-৫-২০) আদালতের মাধ্যমে জেলাহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ আবির মোহাম্মদ হোসেন।

প্রসঙ্গত, ঈদের দিন (সোমবার) বিকেলে বরগুনার পায়রা নদীর পাড়ে গোলবুনিয়া বল্ক ইয়ার্ডে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ঘুরতে যান হৃদয়। এ সময় পূর্বশত্রুতার পাশাপাশি হৃদয়ের সঙ্গে থাকা এক
বান্ধবীকে অভিযুক্তরা উত্যক্ত করলে হৃদয় এর প্রতিবাদ করেন। এতে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হলে অভিযুক্তরা হৃদয়সহ তার কয়েক বন্ধুকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে গুরুতর আহত হৃদয়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মারা যান হৃদয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *