বানিয়াচংয়ের সরকারি কর্মকমর্তাদের নাম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের হোসেনপুর গ্রামে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকমর্তাদের নাম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি স্থানীয়দের জিডিসহ মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের প্রভাবশালী বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান বিথঙ্গলের হোসেনপুর গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার পুত্র বাবুল মিয়া নিজেকে যুদ্ধাপরাধ মামলার পরিচালক পরিচয় দেয়ার পাশাপাশি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে এলাকার লোকজনদের হয়রানী করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তার এই দাপটের কারণে তার স্বজনরা এলাকায় মাদকের ব্যবসাও চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে এলাকার মানুষ কথা বললে জিডিসহ মামলা দায়ের করছেন বাবুল মিয়া। সম্প্রতি বাবুল মিয়ার ছোট ভাইসহ তার এক সহযোগিকে ইয়াবাসহ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে । তাদের অপকর্মে অতিষ্ঠ এলাকার নিরিহ মানুষ। যদিও এসব অভিযোগ অশ্বিকার করে বাবুল মিয়া বলেছেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে ভিন্ন একটি মহল।

এ ব্যাপারে বিথঙ্গল জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলাম জানান, যুদ্ধাপরাধ মামলার সমন্বয়ক পুলিশের আইজিপি পদমর্যাদায় কমকর্তা আন্তর্জাতিক যুদ্ধা অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সমন্বয়কসহ যুদ্ধপরাধ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর হুসাইন এর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এলাকায় অপরাধ মূলক কর্মকান্ড ও অরাজকতা সৃষ্টি করে যাচ্ছেন বাবুল মিয়া। তিনি বলেন-যুদ্ধপরাধ মামলার পরিচালক দিয়ে বাবুল মিয়া এলাকার লোকজনদের মামলা মোকাদ্দমা দিয়ে হয়রানি করছেন। তিনি বলেন-বাবুল মিয়াকে না সামাল দিলে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন-প্রকৃত যুদ্ধপরাধ মামলার আসামীদের আমরা বিচার চাই। এ জন্য সাধারণ মানুষকে হয়রানী করা হবে, সেটি কারো পক্ষে কাম্য নয়।

মুরাদপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও ওয়ার্ড আওমীলীগ সভাপতি ফজলুল হক জানান, বাবুল মিয়ার এলাকার সাধারণ লোকজনদের আইজিপি পদমর্যাদায় এক কমকর্তাও যুদ্ধপরাধ মামলার তদন্ত সংস্থার সমন্বয়কারী আব্দুল হান্নানসহ অন্যানদের নাম ব্যবহার করে এলাকার সাধারণ লোকজনদের হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে বাবুল মিয়া মামলা দায়ের করেছে। তিনি বলেন-কিছু দিন পূর্বে আমরা হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে মৌখিক ভাবে বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন এটি ট্রাইব্যুনালের বিষয়। তারাই দেখবেন।

মাওলানা আব্দুল হাই জানান, বাবুল মিয়া যুদ্ধপরাধ মামলার পরিচালক পরিচয় দিয়ে এলাকার মানুষের কাছে চাঁদাবাজী করে আসছে। এলাকার সাধারণ লোকজন কোন কথা বললেই যুদ্ধপরাধ মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে তাদের হুমকি দেয়। তিনি বলেন-বাবুল মিয়ার আত্মীয় স্বজনরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। কিছুদিন পূর্বে পুলিশ ইয়াবাসহ বাবুল মিয়া ওসমান মিয়া ও তার চাচাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পরবর্তীতে জামিনে এসে তারা আবারও এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি তদন্ত করে বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান। আর কোন মাওলানাগণ তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই তিনি মাওলানাদের জামাত-শিবির বাড়িয়ে তাদের হুমকি দেন। শুধু তাই নয়, তূচ্ছ বিষয় নিয়ে বাবুল মিয়া এলাকার নিরীহ মানুষদের হয়রানি করে আসছেন।

এলাকার  মুরুব্বী শামছুদ্দিন জানান, বাবুল মিয়া এলাকার ভাল বাল লোকদের হয়রানী করে আসছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। প্রতিবদ্ধি মাওলানা নূরুল ইসলাম বলেন-কোন কিছু বলার স্বাধীনতা নেই। কিছু বললেই তারা আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবে। তিনি বলেন-নুর হোসেন স্যারসহ সংস্থার কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে বাবুল মিয়া সাধারণ লোকজনদের হয়রানী করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নেয়া সময়ের দাবি।

আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন বাবুল মিয়া বলেন- তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে ভিন্ন একটি মহল। ওই মহলটি নিজেরা বাচার জন্য ওই চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেন-আমার আত্মীয় স্বজনদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা আদৌ সত্য নয়। কিছুদিন পূর্বে ওই চক্রটি আমার ছোট ভাইকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়টি তদন্তের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

এ ব্যাপারে যুদ্ধপরাধ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর হুসাইন যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে সহযোগিতা করায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। প্রকৃত পক্ষে বাবুল মিয়া আমাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে নিরীহ মানুষদের যাতে হয়রানী না করে এ জন্য বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *