ব্রিটেনের সকল উপাসনালয় খুলে দিলেও খুলছেনা মসজিদ

মতিয়ার চৌধুরী,লন্ডনঃ মসজিদসহ ইংল্যান্ডের সকল উপাসনালয় ১৫ জুন সোমবার থেকে খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ সময় থেকে সামাজিক দূরত্বের গাইডলাইন্স অনুসরণ করে প্রার্থনা করতে পারবে লোকজন। অর্থাৎ একত্রিত না হয়ে দূরত্ব বজায় প্রার্থনা করতে হবে।তবে ইষ্ট লন্ডনে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আওতাধীন মসজিদগুলো এখনই খুলবে না বলে জানা গেছে।

যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিল অব মস্ক টাওয়ার হ্যামলেটসের ট্রেজারার আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল বলেন, মুসলমানদের মসজিদে যাওয়ার মুল উদ্দেশ্যই হচ্ছে জামাত বা একত্রিত হয়ে নামাজ পড়া। কিন্তু সরকারের বর্তমান গাইডলাইন্স অনুযায়ী মসজিদ খুললেও জামাতে নামাজ পড়া যাবে না। একা একা পড়তে হবে। তাই কাউন্সিল অব মস্ক এখনই মসজিদ খুলে না দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যখন জামাতে নামাজ পড়ার ঘোষণা আসবে তখনই খোলা হবে।

এদিকে বৃটেনের অন্যতম ইসলামিক প্রতিষ্ঠান ইস্ট লন্ডন মস্ক এণ্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টারও ১৫ জুন সোমবার খুলছে না। এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে ইস্ট লন্ডন মসজিদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব খান কাউন্সিল অব মস্কের সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষন করে বলেন, মসজিদ খুলে দেয়ার আগে আমাদেরকে হেলথ এন্ড সেইফটি কথা ভাবতে হবে। সরকারের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী মসজিদে ব্যক্তিগতভাবে আলাদা আলাদা নামাজ পড়া যাবে। কিন্তু এতে তো মসজিদে যাওয়ার মুল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয় না। মসজিদ খুলে দেয়ার মুল উদ্দেশ্যই হচ্ছে জামাতে নামাজ পড়া। আপাতত এই সুযোগ নেই। তাই ইস্ট লন্ডন মসজিদ বর্তমান অবস্থায় খুলে দেয়া নিরাপদ নয় বলে আমরা মনে করি। তবে আমরা আশাবাদী খুব শীঘ্রই লকডাউন আরো শিথিল হবে, সরকারী সিদ্ধান্ত আসবে এবং মসজিদগুলো খুলে দেয়া হবে।

মুসলিম কাউন্সিল অব বৃটেনের (এমসিবি) সেক্রেটারি জেনারেল হারুন খান বলেছেন, প্রাথমিকভাবে মসজিদ হলো একত্রে জামাতে নামাজ আদায় করার স্থান। ফলে বর্তমান নতুন রেগুলেশন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ রয়েছে। এনিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে আঞ্চলিক ও জাতীয় মুসলিম বিষয়ক কয়েক ডজন এসোসিয়েশন এবং কয়েকশত মসজিদের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ ও আলোচনা করেছে এমসিবি। এতে আরো বলা হয়, আমরা সরকারের কাছে সুস্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন গাইডলাইন চাই, যাতে মসজিদের ট্রাস্টি, স্টাফ, স্বেচ্ছাসেবী ও অন্যরা যার যার জায়গায় থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সরকার ও বৃহৎ ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় মসজিদ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্লেসেস অব ওয়ারশিপ টাস্কফোর্সে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটি সেক্রেটারি রবার্ট জেনরিক এমপি। এই টাস্কফোর্সে একজন মুসলিম সদস্য আছেন। তিনি হলেন বৃটিশ বোর্ড অব স্কলার্স অ্যান্ড ইমামস নামক সংগঠনের সদস্য শায়ক ড. অসিম ইউসুফ। করোনাভাইরাস সংকটের কারণে বেশ কয়েক মাস ধরে বৃটেনে মসজিদগুলো বন্ধ রয়েছে। সরকার বলছে, উপাসনালয়গুলোতে প্রার্থনা করার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ও মানসিক সুবিধা অর্জনে সক্ষম হবে লোকজন। বাড়িতে বসে প্রার্থনা করে এমন প্রশান্তি অর্জন করতে পারেন না অনেকে। এক্ষেত্রে উপাসনালয় খুলে দেয়ার আগে শর্ত দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, উপাসনালয় পরিষ্কার থাকতে হবে। প্রবেশ ও বহির্গমন পথে হাত পরিষ্কারের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

উপাসনাকারীদের নিজস্ব জায়নামাজ বা ম্যাট বহন করতে হবে। প্রয়োজন হলে নিজস্ব ধর্মীয় গ্রন্থ বা এর অংশ বিশেষ সঙ্গে নিতে হবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষিতে দলবদ্ধভাবে জামাতে নামাজ বা প্রার্থনা করা যাবে না।
অন্য দিকে সরকারের এই ঘোষনায় দারুন খুশি অন্যান্য ধর্মালম্বীরা একমাত্র মসজিদ ব্যথিত অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্টান গুলো গীরজা, সিনগাগ গুরুদোয়ারা ও মন্দির গুলো খুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *