প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের দিনে একটি শব্দ শেখানোর নির্দেশ

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভাষাজ্ঞান বাড়াতে প্রাথমিকের শিার্থীদের প্রতিদিন ন্যূনতম একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি শব্দ শুদ্ধ উচ্চারণে বলা, পড়া ও লেখা শেখাতে হবে।
প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি বই থেকে একটি করে প্যারা বা পৃষ্ঠা পঠনের (রিডিং) জন্য বাড়ির কাজ দিতে হবে। প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা হাতের লেখা বাড়ি থেকে লিখে আনতে বাড়ির কাজ দিতে হবে। এ পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আকরাম-আল-হোসেন। উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘দৈনিক নয়া দিগন্তে’ এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
পরিপত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য এরূপ সাত দফা এবং উপজেলা পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য দুই দফা নির্দেশনা দেয়া হয়। শিক্ষকদের জন্য পরিপত্রে আরো যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে, কাসে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট শ্রেণী শিক্ষক সব শিক্ষার্থীকে আবশ্যিকভাবে পঠন (রিডিং) করাবেন। শিক্ষকেরা নিজেরা শিশুদের সাথে উচ্চারণ করে পাঠদান করবেন। এতে শিক্ষার্থীদের উচ্চারণ জড়তা দূর হবে এবং প্রমিত উচ্চারণশৈলীর সৃষ্টি হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চারণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মনোবল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। বুক কর্নার ও এসআরএমে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিদিন প্রতি শিার্থীকে ন্যূনতম একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি শব্দ পড়া, বলা ও লেখা শেখাতে হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ভাষার ভাণ্ডার বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শিশুরা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে ও লিখতে পারবে।
উপজেলা পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য দুই দফা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করবেন। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ইন্সট্রাক্টর, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভাগীয় উপপরিচালকরা তাদের পরিদর্শন প্রতিবেদনে শিক্ষকদের বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে শিশুদের পাঠাভ্যাস সংক্রান্ত এ নির্দেশনা প্রতিপালন করবেন।
পরিপত্রে ওই নির্দেশনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিার গুণগতমান বৃদ্ধি করতে হবে। বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে দেখা যায়, শিশুরা বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে যথাযথভাবে পড়তে, বলতে ও লিখতে পারে না। অথচ পরীক্ষায় তারা উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চতর শ্রেণীতে ভর্তি হয়। কিন্তু ভাষাজ্ঞান অপরিণতই থেকে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *