বামনায় উপজেলা পরিষদের পুকুরের মাছ ভাগ বাটোয়ারা

বীরেন্দ্র কিশোর সরকার, বরগুনা ॥ বরগুনার বামনা উপজেলা পরিষদ পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রোববার (২৮ জুন) দুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তাদের কর্মচারীরা ধরে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে গেছেন।

জানাগেছে, বিভিন্ন সময়ে উপজেলা মৎস্য অফিস এ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করে। ইতোমধ্যে ওই মাছ বেশ বড় হয়েছে। আর এসব বড় বড় মাছ কোন রকম দরপত্র আহবান ছাড়াই ধরা হয়েছে। অথর এ পুকুর থেকে মাছ বিক্রির আয়ের টাকা জমা করতে হয় সরকারি কোষাগারে।

উপজেলা পরিষদ পুকুরের মাছ বিক্রি করতে হলে প্রথমে উম্মুক্ত দরপত্র আহবান করতে হয়। কিন্তু এসবের তোয়াক্তা না করে বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুকুরটির সকল মাছ ধরে নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, গত ৪ জুন উপজেলা পরিষদ পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার জন্য ৭ জন সৌখিন মাছ শিকারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করেন। জন প্রতি ৫ হাজার ৫০০টাকা দিয়ে ২দিন তারা এই পুকুরে মাছ শিকার করেন। ওই সময়ে মোট ৩৮ হাজার ৫শ’ টাকা আয় করে উপজেলা পরিষদ। ওই টাকা তারা রাজস্বখাতে জমা দেন। এরপর পুকুরের বাকি মাছ ধরে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে বামনা উপজেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. বদরুজ্জামান বলেন, মৎস্য বিভাগ প্রতিবছর পুকুরে মাছ অবমুক্ত করে। যেহেতু উপজেলা পরিষদ এই পুকুরটি দেখাশুনা করে কিন্তু মাছ ধরার সময় বিষয়টি মৎস্য বিভাগকে অবহিত করা উচিত। এটা তাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে আমি মনে করি। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন আমাদের কিছুই অবহিত করেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের অফিস সহকারী মো. সাইদুল ইসলাম জানান, সৌখিন মৎস্য শিকারীদের মাধ্যমে পাওয়া রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। তবে আজ যে মাছ শিকার করা হয়েছে তার রাজস্ব জমা দেওয়ার কোন পরিপত্র আমার জানামতে নাই।

এদিকে সাংবাদিকরা উপজেলা পরিষদের মাছ লোপাটের বিষয়ে টের পেয়ে খোজ খবর নিতে গেলে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শাকিল আহম্মেদ বামনা প্রেসক্লাব সভাপতি ওবায়দুল কবির আকন্দকে ফোন করে মাছ নিয়ে যেতে বলেন বলে জানান প্রেসক্লাব সভাপতি।

তিনি বলেন, কোন ভাবেই উপজেলা প্রশাসন বা পরিষদ রাজস্ব জমা নাদিয়ে অথবা উম্মুক্ত দরপত্র আহবান না করে সরকারি পুকুরের মাছ নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিতে পারেন না। সৌখিন মাছ শিকারীদের কাছ থেকে আয় করা রাজস্ব জমাদিয়ে পুকুরের বাকি মাছ নিজেরা লোপাট করেছেন। আমি মনে করি এটা উপজেলা প্রশাসনের পুকুর চুরি।

এব্যপারে জানতে বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু তার মোবাইল ফোনটিতে বারবার কল করা হরেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।

তবে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা বলেন, যেহেতু সৌখিন মৎস্য শিকারীদের কাছ থেকে আমরা উপজেলা পরিষদ পুকুরের মাছ শিকারের বাবদ ৩৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছি। পুকুরে তেমন মাছ ছিলো না। কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সখ হয়েছে পুকুরের বাকি মাছগুলো ধরার তাই মাসিক সমন্বয় সভায় সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা পরিষদ পুকুরের বাকি মাছগুলো ধরা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *