শাল্লায় বাড়ছে বন্যার পানি, লোকজন ছাড়ছে বাড়ি-ঘর !

বকুল আহমেদ তালুকদার,শাল্লা প্রতিনিধি: গত চার পাঁচ দিন যাবৎ অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলের ফলে উজান থেকে নেমে আশা পানিতে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার অধিকাংশ গ্রামের বাড়ি ঘর তলিয়ে গেছে।
গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজারের অধিক মানুষ। এ অবস্থায় জনজীবন বির্পযস্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে দিনমজুর এবং নিম্নবিত্তদের জীবনে ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে এসেছে। তারা হয়ে পড়েছে কর্মহীন। শুধু দিনমজুর শ্রেণীর মানুষই না ব্যাবসায়ীরাও এই দুর্যোগের ফলে সমানে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
উপজেলার ৪নং শাল্লা ইউনিয়নের মনুয়া, সাতপাড়া ও শাহগঞ্জ বাজার, বাহাড়া ইউনিয়নের প্রতাপপুর বাজার, হবিবপুর ইউনিয়নের শাসখাই বাজার এবং আটগাঁও ইউনিয়নের নিজগাঁও ও রাহুতলা বাজারের ব্যবসায়ীরা পড়েছে মারাত্মক অসুবিধায়। অপরদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় একে একে ঘর-বাড়ি ছাড়ছে বন্যা দুর্গত লোকজন।
এরই মধ্যে উপজেলা প্রশাসন বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য উপজেলার ৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্ত্র হিসেবে ঘোষনা করেছে। ওইসব বিদ্যালয় সমূহে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১শ’র অধিক পরিবার।
সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদরের ফায়ার সার্ভিস রোডের প্রায় সবকটি পরিবারের লোকজন ঘর-বাড়ি ছেড়ে এরইমধ্যে অন্যত্র চলে গেছেন। ডুমরা গ্রামেরও অধিকাংশ ঘর-বাড়ি এবং কলেজ রোডের বাড়ি-ঘর সমূহ বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে।
আবার শাল্লা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও, ইয়ারাবাদ, নোয়াগাঁও, রহমতপুর, বাহাড়া ইউনিয়নের ডুমরা, তাজপুর, ভাটগাঁও, মেদা, মুছাপুর, প্রতাপপুর, মির্জাপুর, হবিবপুর ইউনিয়নের নারকিলা, জাতগাঁও, ব্রাহ্মণগাঁও, পুটকা, খলাপাড়া, শাসখাই, বিলপুর এবং আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর, ফরিদপুর, উজানগাঁও, দাউদপুর, বাজারকান্দি, সোনাকানি, মির্জাপুর ও রাহুতলার কিছু অংশ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
ওইসব গ্রামের লোকজন তাদের জানমাল ও গৃহপালিত পশুদের নিয়ে পড়েছে চরম বিপর্যয়ে। লোকেরা স্কুলের বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও স্থান হচ্ছে না তাদের পালিত গবাদি পশুদের।
অন্যদিকে উপজেলার হবিবপুর ইউপি সচিব জানান তার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ২০টি পরিবার বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে এবং প্রায় ৪শ’ পরিবার পানিবন্ধি আছে। শাল্লা ইউপি সচিব জানিয়েছেন তার ইউনিয়নে ৩৩টি পরিবার এরইমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ও ৪শ’ ২০টি পরিবার পানি বন্ধি আছে। আটগাঁও ইউপি সচিব জানিয়েছেন তার ইউনিয়নে এ যাবৎ ৫শ পরিবার পানিবন্ধি এবং ৩০টি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। বাহাড়া ইউপি সচিব বিপ্লব দাস জানান এ ইউনিয়নে এপর্যন্ত মোট ৪শ’ ২০টি পরিবার পানিবন্ধি রয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৮টি পরিবার।
শাল্লা ইউনিয়নের ইয়ারাবাদ নতুন হাটির আব্দুল কুদ্দুছ এ প্রতিবেদক জানান, আমার বাড়ির চারদিকে পানি। উঠানেও পানি। আমরা ঘর থেকে বাইর হতে পাড়তাছি না। আর যদি আধাফুট পানি হয় তাইলে ঘর-বাড়ি ছাইড়া যাওন লাগবো।
উপজেলা সদরের ফায়ার সার্ভিস রোডের মোঃ রফিক মিয়া, মোঃ লাল মিয়া, ডুমরা গ্রামের আবু তাহের জানান, আমরার বাড়ি-ঘরে পানি। আমরা শাল্লা হাসিমিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় আশ্রয় নিয়েছি।
এখন পর্যন্ত আমাদেরকে কেউ দেখেনি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ফজললু করিম জানান, বন্যার পানি বাড়ছে। ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যেই উপজেলার ৬১টি বিদ্যালয়কে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষনা করা হয়েছে। বন্যা কবলিত ১শ’ ৫টি পরিবার এরইমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছি।
বন্যার সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল মুক্তাদিরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে এবং ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *