আইএস বধু ব্রিটিশ বাঙ্গালী শামীমা ব্রিটেনে  ফিরে  আইনী লড়াই চালিয়ে যেতে রায় দিয়েছে  আপিল আদালত

লন্ডন থেকে মতিয়ার চৌধুরীঃ সিরিয়ায় আই এস এ যোগদান কারি ব্রিটিশ  বাংলাদেশী জঙ্গিবধু  শামীমা বেগমকে  ব্রিটেনে  ফিরে তার আইনী লড়াই চালিয়ে যেতে পারবেন বলে রায় দিয়েছে ব্রিটেনের আপিল আদালত। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে ব্রিটিশ সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইনী লড়াই করতে তিনি আপাদতঃ ব্রিটেনে ফিরতে পারবেন।

উল্লেখ্য যে ইষ্ট লন্ডনের ব্যাথনালগ্রীন এলাকার বাসিন্দা কিশোরী শামীমা বেগম ২০১৫ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি লন্ডনের গেটউইক এয়ারপোর্ট দিয়ে ইস্তাম্বুল তুর্কি হয়ে সিরিয়ায় আই এস এ যোগদান করে। সাথে ছিল খাদিজা সুলতানা ১৬, এবং আমিরা আব্বাসে ১৫।

শামীমা বেগম ইয়াগো রিডজিক নামক এক আইএস জংগীকে বিয়ে করে। ২০১৭ সালের জানুয়ারীতে  সিরিয়ার ক্যাম্পে মানবেতর জীবন যাপনে শামীমার ১ বৎসরের কন্যা  ও ৩ মাসের পুত্র সন্তান মৃত্যু বরন করে। মানবেতর জীবন থেকে মুক্তির জন্য ব্রিটেনে ফিরে আসার  আকুতি জানায় শামীমা বেগম।

তার ব্রিটেনে ফিরে আসা কোর্টে গিয়ে গড়ায়। হেয়ারিং চলা কালে শামীমার আইনজীবিরা যুক্তিতুলে ধরে বলেন  একজন ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে তার ব্রিটেনে ফিরে আসার অধিকার রয়েছে। কেননা শামীমা জন্ম সূত্রে  একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং সে যখন জংগী সংগঠন আইএস এ যোগ দেয় তখন সে অপ্রাপ্ত বয়স্কা ছিল।

সরকারী পক্ষের কিউ সি জেম্স ফাডিয়ে তার যুক্তি উথ্থাপনে বলেন,” আই এস এ যোগদান কারী কোন নাগরিক ব্রিটেনে ফিরে আসার অধিকার রাখে না”। তৎকালীন হোম সেক্রেটারী সাজেদ জাভেদ শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল ঘোষনা করেছেন। শামীমা বেগমের পক্ষের কিউ সি টম হিকম্যান- হোম অফিসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্ট এবং স্পেশাল ইমিগ্রেশন আপিল কমিশনের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

কি কি কারনে একজন বৃটিশ নাগরিক তার নাগরিকত্ব হারাতে পারে সে বিষয় গুলি পরিস্কার করে তুলে ধরেন। তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন,” শামীমা বেগমকে দেশ বিহীন করা যাবে না, কারন সে যখন সিরিয়া আই এস এ যোগ দিয়েছে তখন  তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। এমনকি জিসিএসই পরীক্ষা ও দেয়নি। তখন শামীমা বেগম ইস্ট লন্ডনের বেথনাল গ্রীন একাডেমী স্কুলের ছাত্রী ছিলো। কোর্ট হেয়ারিং করেন লর্ড জাস্টিজ ফ্লাউক্স, লেডী জাস্টিজ কিং এবং লর্ড জাস্টিজ সমন্বয়ে হেয়ারিং বলা হয় শামীমা বেগম বৃটিশ নাগরিক ।

তাকে বৃটেনে ফিরিয়ে আনতে হবে। শামীমা বেগমের দেশের বাড়ী বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের দাওরাই গ্রামে। বাংলাদেশে অবস্থানরত শামীমার পিতাও তার মেয়েকে ব্রিটেনে ফিরিয়ে আনতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন। দিকে বাংলাদেশ সাফ জানিয়ে দিয়েছে শামীমা বাংলাদেশের কেউ নন বাংলাদেশ তাঁকে  গ্রহন করবেনা ।শামীমা বেগমকে ব্রিটেনে ফিরিয়ে আনার আইনি লড়াইয়ের জন্য £৩০০০০ ত্রিশ হাজার পাউন্ড সংগ্রহের ক্যাম্পেইন চলছে।

ব্রিটিশ বাংলাদেশী একটি গোষ্টী মানবাধিকারে নামে শামীমাকে ব্রিটেনে ফিরিয়ে আনতে তার পক্ষে ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে সেই সাথে আইনী লড়াইয়ের জন্যে ফান্ডও সংগ্রহ করছে। যারা শামীমার পক্ষে ক্যাম্পেইন করছেন তাদের উদ্দেশ্য এবং চিন্তা চেতনা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন যারা শামীমার পক্ষে ক্যাম্পেইন করছেন তারা কারা আর তাদের উদ্দেশ্যই বা কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *