তিন্নিন সাপ :-এম এ মজিদ

নামের অর্থের ব্যাপারে আমার আগ্রহ অনেক। মা বাবা কেন সন্তানের নাম রাখার ব্যাপারে নিজ নিজ ধর্মের আশ্রয় নেন না, তা নিয়ে আমার আফসোসেরও শেষ নেই।

যদিও আমি আরবি বেশি বুঝি না, এতোটুকু বুঝি অন্তত নামটা নিজ নিজ ধর্মের অর্থ বোধক হওয়া চাই। প্রত্যেকেরই তো একটা ধর্ম আছে, ধর্মের একটি গ্রন্থ আছে, নূন্যতম একটা শিক্ষা আছে।

ধর্মহীন মানুষের সংখ্যা কম। ধর্মের কোনো কিছুই তো কাউকে খারাপ হতে পরামর্শ দেয়নি। আমি যদি কারও নাম মুহিন শুনি, খুব খারাপ লাগে।

পবিত্র কোরআনে পাপিষ্টদের আজাবের ধরন ব্যাখ্যা করা হয়েছে মুহিন শব্দ দ্বারা। ওয়ালাহুম আজাবুম মুহিন, (তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্চনাজনক আজাব), কতবার এই বাক্যটি পবিত্র কোরআনে এসেছে তার হিসাব আমার জানা নেই।

আপনার সন্তানের নাম মুহিন, সেটা আরবী, আমি যদি বাংলায় ডাকি লাঞ্চনাকারী বা লাঞ্চনাজনক বালক, আপনি আমাকে কি বলবেন? কারও নাম রামিম শুনলে, আমি চিন্তা করি, হুজুরগন যখন নাম রাখার ব্যাপারে দোয়া করেন তিনি কেন পরিবারটিকে সচেতন করেননি? সূরা ইয়াসিনের শেষ দিকে রামিম শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, পাপিষ্টরা আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছে, হাড়গুলো যখন পচে মাটিতে মিশে যাবে, তখন কে কিভাবে তা আবার একত্রিত করে মানুষের আকৃতিতে জীবিত করবে? আল্লাহ বলেছেন- সে তার প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কেই ভুলে গেছে? যে প্রথম তাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই তাকে পুনরায় জীবিত করবেন।

আল্লাহর সাথে এমন একটি চ্যালেঞ্জের শব্দ রামিম কি আপনার সন্তানের নাম হতে পারে? রামিম শব্দটি আরবী, কেউ যদি বাংলায় ডাকে পচাগলা হাড় বলে কেমন লাগবে? পবিত্র কোরআনে শব্দ আছে বলেই আপনি আপনার সন্তানের নাম রাখবেন? পবিত্র কোরআনে তো পাপিষ্টদের অনেক শব্দ দ্বারা গালিও দেয়া হয়েছে, আজাব গজবের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।

মৃত্যুর পর পাপিষ্টদেরকে কবরে ৯৯টি বিষাক্ত সাপ কিয়ামত পর্যন্ত কামড়াতে থাকবে। ওই সাপের নাম তিন্নিন। হাদিস শরীফে আসছে- এর কোনো একটি সাপ যদি পৃথিবীতে বিষাক্ত শ্বাস ফেলতো তাহলে কোনো গাছ গাছালি জন্ম নিত না।

অনেক মেয়ের নাম তিন্নি। আরবীতে এর অর্থ কি আমি জানি না। তবে তিন্নি নামটি কবরের তিন্নিন নামক বিষাক্ত সাপের নামের সাথে মিলে যায়। যদি আপনার সন্তানের নাম মুহিন, মাহিন, জেরিন, রামিম, তিন্নি কিংবা অন্য কিছু হয় তাহলে অভিজ্ঞ আলেমের সাথে পরামর্শ করুন।

অর্থ বোধক না হলে নাম পাল্টে দিন, তা লজ্জার কিছু না। রাসুল সাঃ অনেক সাহাবীর নাম বদলে দিয়েছেন, কিংবা ইসলাম ধর্ম গ্রহনের আগে এক নাম ছিল, ইসলাম ধর্ম গ্রহনের পর নতুন নাম রেখে দিয়েছেন।

আমি একজন স্মার্ট শিক্ষানবিস আইনজীবীকে জানি, পরিবারের দেয়া তার নামটি অর্থ বোধক নয়, এখন নিজের উদ্যোগে এবং পারিবারিক সিদ্ধান্তেই তার নাম পাল্টে একটি ইসলামীক অর্থ বোধক নাম দেয়া হয়েছে। যদি কোনো ইসলামিক স্কলার আমার লেখার কোনো ভুল ভ্রান্তি শুধরে দেন কৃতার্থ হব।

এম এ মজিদ, হবিগঞ্জ, ২০ জুলাই ২০২০

০১৭১১-৭৮২২৩২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *