বরগুনায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বসত ঘর ভাংচুরের অভিযোগ

বীরেন্দ্র কিশোর সরকার, বরগুনা ॥ ভূমিহীন পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বসতঘর ভাংচুর করে নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে বরগুনা সদর উপজেলার ফুলতলা গ্রামে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী সালাউদ্দিন বাদল গত বুধবার বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবরে ভাংচুরকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

আবেদনে সালাউদ্দিন বাদল উল্লেখ করেন, আমি ভূমিহীন এবং আমার একমাত্র ছেলে মো. সাইম প্রতিবন্ধী। এমতাবস্থায় বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের জেএল ৬ নং কুমড়াখালী মৌজার ফুলতলা নামক স্থানে সরকারি খাস খতিয়ানের এসএ ৩৬৬৩ নং ও বিএস ৪৮৮৩ নং দাগের ৪০ শতাংশ জমির মাথায় রাস্তার পাসে জীবিকা নির্বাহ এবং বসবাস করার জন্য দোকান ও বসতঘর নির্মাণ করি। এখানে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস এবং ব্যবসা করে আসছি।

দোকান ও বসতঘর সংলগ্ন খাস খতিয়ানভূক্ত ওই ৪০ শতাংশ জমি আমার প্রতিবন্ধী ছেলের নামে বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য গত ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশসহ বরগুনা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে আবেদন করি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় করোনার কারণে স্থগিত হয়।

এ সুযোগে ফুলতলা গ্রামের প্রতিপক্ষ কামাল হোসেন, মো. সুলতান, মো. রাজিবসহ ৬-৭ জন লোক গত ৬ ফেব্রুয়ারি আমার অনুপস্থিতিতে দোকান ও বসত ঘরে প্রবেশ করে ভাংচুর করে নদীতে ফেলে দেয়। মালপত্রসহ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে আমাকেসহ পরিবার পরিজনকে খুনযখমের হুমকি দিয়ে প্রতিপক্ষরা চলে যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাদলের বসতঘর ও দোকান নদীতে পড়ে আছে। প্রতিপক্ষের কয়েক ব্যক্তি ঘরের মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। কারণ জানতে চাইলে জবাব না দিয়ে তারা সটকে পড়েন।

ভূক্তভোগী বাদল ধরা গলায় বলেন, আমার মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও প্রতিপক্ষরা তছনচ করে দিয়েচে। পৈত্রিক সূত্রে মাত্র ৫ শতাংশ জমি পেয়েছি। তাও প্রতিবন্ধী ছেলের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে বিক্রি করে ফেলেছি। এখন শ্বশুরের ঘরে থাকি। উক্ত জমি তার প্রতিবন্ধী ছেলের নামে বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানান বাদল।

এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ সুলতান আহমেদ জানান, ওই জমি সরকার বিগত ১৯৭০-৭২ সালে আমাদের নামে বস্তোবস্ত দিয়েছে। এবং কোর্ট থেকে আমাদের দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। দখল নেয়ার সময় দোকানপাট উচ্ছেদম করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *