আবোরো বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি

বাংলা কণ্ঠ রিপোর্ট ॥ জিয়াউর রহমানরে বীর উত্তম খেতাবের বাতিলের সরকারি অপচেষ্টার প্রতিবাদে আবোরো বিক্ষোভ কর্মসূচি দি্য়েছে বিএনপি। আগামী বুধবার বরিশাল বিভাগ ছাড়া সারাদেশে মহানগর ও জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশের এই কর্মসূচি হবে।

রোববার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই কর্মসূচি করেন।

খন্দকার মোশারফ বলেন, ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় স্বৈরতন্ত্র ও মাফিয়াতন্ত্র পতনের দাবিতে ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের খেতাব বাতিলের সরকারি অপচেষ্টার প্রতিবাদে আগামী বুধবার বরিশাল বিভাগ ছাড়া সারাদেশে মহানগর ও জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।’

একইসাথে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ১৮ ফ্রেব্রুয়ারি বরিশাল সদরে আয়েজিত সমাবেশে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের অংশ নেয়ার আহবান জানান খন্দকার মোশাররফ। পরবর্তিতে আরো কর্মসূচি আসবে কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘পে ধাপে অবশ্যই কর্মসূচি থাকবে।’ ‘এছাড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সরকার পতনের আন্দোলন আমাদের চলমান আছে। বিভাগীয় সমাবেশ শুরু করতে যাচ্ছি। আগামী ১৮ তারিখ বরিশালে আমাদের যে সমাবেশ এটাও তো আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। এভাবে আন্দোলনকে আমরা আমাদের লক্ষ্যে নিয়ে যেতে চাই।’ জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন থেকে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার সরকারি পরিকল্পনার অংশ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘একটি সোর্সের ওপরে, একটি সাপ্লাইয়ের ওপরে আমাদের নির্ভর করা সমীচিন হচ্ছে না। কোনো দেশই একটি সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে তারা এই ভ্যাকসিন আনার ব্যবস্থা নেয়নি, তারা একাধিক সূত্র থেকে ক্রয়ের ব্যবস্থা নিয়েছে। তাই আমরা এখনো বলছি যে, আমাদের বিকল্প সোর্স যদি খোঁজা না হয় তাহলে কিন্তু এই যে, কিছুদিন পরে যে পরিমাণ আমাদের ভ্যাকসিন দেয়া প্রয়োজন সেই পরিমান ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব হবে না সরকারের।’

বিএনপি পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করছে-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রশ্নের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আপনারা(সাংবাদিক) নিজেরাই তো সাক্ষী আরকি শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে যে ঘটনা ঘটেছে- এই ঝগড়াটা কে লাগিয়েছে? বিএনপি না সরকারের পুলিশ। তো এখন তারা আক্রমণ করে বলে যদি আমরা ঝগড়া লাগাচ্ছি-এটার জন্য আমাদেরকে প্রশ্ন না করে বরংঞ্চ তারা যখন প্রশ্ন করে তাদেরকে বলা উচিত না যে, আপনি এই কথা বলতেছেন কিন্তু আপনাদের লোকরাই তো ঝগড়া লাগাইতেছে।’

‘একজন মন্ত্রী একটা পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি আল-জাজিরার মতো একটা সংবাদ মাধ্যম সম্পর্কে কিছু জানেন না এটা বিশ্বাস করা কঠিন। কাতারের শাসকগোষ্ঠির মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক পর্য়ায়ের সংবাদ মাধ্যম তাকে প্রভাবিত করতেছে বাংলাদেশের বিরোধী দল বা বিএনপি-এরকম কথা যে বলে আরকি তার প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। বরংঞ্চ তাকে বলা দরকার যে, আপনি বুঝার চেষ্টা করেন, জানার চেষ্টা করেন, শেখার চেষ্টা করেন তারপরে কথা বলেন।’

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির এই ভার্চুয়াল বৈঠকে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *