বরগুনায় আসামি না হয়েও ভূয়া ওয়ারেন্টে জেল খাটলেন কৃষক বাদল মিয়া

বীরেন্দ্র কিশোর সরকার,বরগুনা : ঢাকার একটি ভুয়া শিশু ধর্ষণের মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানায় ৩৫ দিন জেল খেটেছেন বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া গ্রামের বাদল মিয়া (৫৭)। এজন্য বরগুনা সদর থানায় কর্মরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল ইসলাম ও এএসআই নাঈমুর রহমানকে অভিযুক্ত করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৩-২-২১) সন্ধ্যায় বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিনা অপরাধে কারাবাসের জন্য রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণও দাবি করেন বাদল মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাদল মিয়া জানান, গত ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর একই গ্রামের কথিত পুলিশের সোর্স সাইফুল ও ইলিয়াস এবং বরগুনা থানার এএসআই সাইফুল ঢাকার একটি শিশু ধর্ষন মামলায় আমাকে গ্রেফতারি পরওয়ানার (ওয়ারেন্ট) কপি দেখায় এবং থানায় নিয়ে আটক করে। এসময় আমার স্বজনরা ২৫ হাজার টাকা দিয়ে আমাকে ছাড়িয়ে আনে।
পরবর্তীতে বিষয়টি আওয়ামী লীগ নেত্রী খালেদা ইসলাম সুইটির নজরে আনা হলে তিনি পুলিশের সোর্সকে চাপ দিয়ে ২৫ হাজার টাকা ফেরৎ আনেন।

এঘটনায় পুলিশের এএসআই সাইফুল আমার উপর ভয়ানক ক্ষিপ্ত হন। পরে তিনি নিজে না এসে এএসআই নাইমুরকে দিয়ে একই ওয়ারেন্টের বলে ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ আমাকে পুনরায় গ্রেফতার করে আদালতে পাঠান এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাহিদ হোসেন আমাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাদল মিয়া অভিযোগ করেন, শুধু টাকার জন্য ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় পুলিশের সোর্স সাইফুল ও ইলিয়াস, বরগুনা থানায় কর্মরত এএসআই নাঈমুর রহমান ও এএসআই সাইফুল ইসলামের সহযোগিতায় আমাকে অস্তিত্বহীন মামলায় ৩৫ দিন কারাভোগ করিয়েছে।

এ বিষয়ে বাদল মিয়ার ছেলে রাকিব বলেন, বাবাকে গ্রেফতারের পর ওয়ারেন্টের কপি নিয়ে মামলার কাগজপত্র তোলার জন্য আমি ঢাকায় যাই। কিন্তু গ্রেফতারি পরোয়ানায় উল্লেখিত ঢাকা জজ কোর্টে ‘শিশু আদালত’ বলতে কোন আদলত আমি খুঁজে পাইনি। তিনি আরও বলেন, ঢাকার জজ কোর্টে ৯টি নারী ও শিশু আদালত রয়েছে। প্রতিটি আদালতে ওয়ারেন্টে উল্লেখিত মামলা নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করে জানতে পারি, এ রকম কোনো মামলা ওইসব আদালতে বিচারাধীন নেই। তখন আমি নিশ্চিত হই আমার বাবাকে ভূয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারি পরওয়ানায় মামলার নম্বর, তারিখ, সিল এবং স্বাক্ষর সবই ছিল জাল। ঢাকায় গিয়ে ভূয়া ওয়ারেন্টের কাগজপত্র যোগার করতে এক মাস পার হয়ে যায়। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বরগুনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তা উপস্থাপন করলে বিচারক আমার বাবাকে বে-কসুর খালাস দেন।

এ ব্যাপারে বিচার চেয়ে বাদল মিয়ার পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিবি ওসি আবুল বাশারকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে ডিবি ওসি আবুল বাশারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তদন্ত চলছে, ইতোমধ্যে এএসআই সাইফুলকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।
বরগুনা থানায় কর্মরত এএসআই নাঈমুর রহমান বলেন, গ্রেফতারি পরওয়ানা হাতে পেয়েই বাদল মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে কথা বলতে এএসআই সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম তরিকুল ইসলাম বলেন, অন্যসব গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামির মতোই বাদল মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এখানে পুলিশের কোনো দোষ নেই। কেননা সব ক্ষেত্রে গ্রেফতারি পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *