অন্ধ শাহেনা ও শাবানার তহবিলে জমা হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৮২৮ টাকা!

এম এ মজিদ :

ফেইসবুকে অন্ধ শাহেনা ও শাবানার করুন জীবন কাহিনী নিয়ে একটি পোষ্ট করার ২৭ দিনের মধ্যে দেশের এবং বিদেশের ২৫ জন ব্যক্তি তাদেরকে ২ লাখ ৭০ হাজার ৮২৮ টাকা প্রদান করেছেন। এসব টাকার মধ্যে শাহেনা, শাবানা ও তাদের মায়ের প্রাথমিক ভরণ পোষনের জন্য প্রথমে ১৫ হাজার, পরবর্তীতে আরও ৪ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়েছে।

তাছাড়া পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য শাহেনা ও শাবানাকে ১টি করে শাড়ি, ১টি করে আনরেডি থ্রিপিস এবং একটি করে ম্যাস্কি কাপড় প্রদান করা হয়েছে। তাদের মাকে একটি শাড়িও প্রদান করা হয়েছে। জামা কাপড় ক্রয় ও সেলাই বাবদ খরচ হয়েছে ৫ হাজার ৩১০ টাকা। অবশিষ্ট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫১৮ টাকা শাহেনা ও শাবানার জন্য জমি বন্ধক রেখে দেয়ার জন্য জমা আছে।

দ্রুত সময়ের মধ্যে জমি বন্দক রেখে তাদেরকে হস্তান্তর করা হবে। দেশ বিদেশের যারা অন্ধ শাহেনা ও শাবানার পাশে দাড়িয়েছেন তারা হলেন- পূবালী ব্যাংকের সফিকুল ইসলাম কামাল ৫ হাজার টাকা, চুনারুঘাটের রানীগাও গ্রামের বৃটেন প্রবাসী মঈনুদ্দিন আহমেদ কাউছার ১০ হাজার টাকা, বানিয়াচং এর কুরিয়া প্রবাসী আব্দুল মোতালিব ৬ হাজার টাকা, নবীগঞ্জের আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী নয়ন দুইবারে ১৯ হাজার ৩৬৯ টাকা, আমেরিকা প্রবাসী নয়নের এক বন্ধু ৫ হাজার টাকা, ইউসিবিএল ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ৫ হাজার টাকা, পুরান মুন্সেফী এলাকার আকিক চৌধুরী ২ হাজার টাকা, বৃটেন প্রবাসী শামসুদ্দিন আহমেদ ১০ হাজার টাকা,

একজন তরুন আইনজীবী ৩ হাজার টাকা, আয়ারল্যান্ড প্রবাসী শায়েস্তাগঞ্জ এর পুটিয়া গ্রামের আব্দুল হান্নান জুন্নুন ও তার বন্ধু বান্ধব আত্বীয় স্বজন মিলে ১ লাখ ৪ হাজার ১২০ টাকা, শায়েস্তানগরের বৃটেন প্রবাসী ইয়াহিয়া কোরেশী ৫ হাজার টাকা, নবীগঞ্জের বাসিন্দা বৃটেন প্রবাসী এনটিভি ইউরোপের ব্যুরো চিফ সাংবাদিক ফারছু আহমেদ চৌধুরী নিজে ও তার পরিচিত বন্ধুবান্ধব আত্বীয় স্বজন মিলে ৫৩ হাজার টাকা, ছোট বহুলা গ্রামের ডাক্তার সোহাগ ৩ হাজার টাকা, হবিগঞ্জের একজন মহিলা মানবাধিকার নেত্রী ও লেখিকা ১০ হাজার টাকা, চুনারুঘাটের আব্দুল মালেক ৫শ টাকা, মাধবপুরের জগদীশপুরের আব্দুল মতিন ৩ হাজার ৬০ টাকা, শায়েস্তানগরের বৃটেন

প্রবাসী সাংবাদিক আরিফ মঈনুদ্দিন ১০ হাজার টাকা, মরহুম এডভোকেট আবুল খায়ের সাহেবের এক প্রবাসী মেয়ে ৪ হাজার টাকা, কলেজ শিক্ষক উজ্জল ৫১০ টাকা, ছোট বহুলার সিঙ্গাপুর প্রবাসী মোহাম্মদ ফজল ২ হাজার টাকা, এক সময়ের সাংবাদিক অলিপুর এলাকার আমেরিকা প্রবাসী মোশাররফ চৌধুরী ১০ হাজার ২৬৯ টাকা। বেশ কিছু টাকা দেশ বিদেশ থেকে বিকাশের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে বিকাশ এর মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের খরচটি আমি ব্যক্তিগতভাবে বহন করে দাতাদের প্রত্যেক টাকাই শাহেনা শাবানার তহবিলে জমা প্রদান করা হয়েছে।

১৫ এপ্রিল থেকে ১২ মে ২০২১ ইং পর্যন্ত ২৭ দিনে উপরুক্ত টাকা জমা হয়েছে। আমার ফেইসবুকের লেখা পড়ে সাংবাদিক শোয়েব চৌধুরী তাদেরকে ২০ কেজি চালসহ তেল চিনি আলো পেয়াজ ইত্যাদি সামগ্রী প্রদান করেছেন। যার বাজার মূল্য ২ হাজার টাকার কম হবে না। ফেইসবুকের লেখা পড়ে প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাদের খোজ খবর নিয়েছেন। আয়ারল্যান্ড প্রবাসী হুমায়ূন কবির অপু শাহেনা ও শাবানার বাথরুম নির্মাণ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জায়গা জটিলতার অবসান হলে সেটি তারা পাবে আশা করি। অন্ধ শাহেনা ও শাবানার পাশে দাড়ানোয় ব্যক্তিগতভাবে আমি আবেগ আপ্লুত, অভিভূত, কৃতজ্ঞ। চোখের পানি ধরে রাখার ক্ষমতা নেই এই কারণে যে, আমার মতো একজন নগন্য ব্যক্তির একটি স্ট্যাটাস পড়ে দুটি অসহায় মেয়ের পাশে মানুষ এভাবে পাশে দাড়াবে তা কল্পনাও করিনি। লেখাটি ফেইসবুকে পোষ্টা করার আগে অনেক চিন্তা ভাবনার কারণ ছিল, এতো অসহায় মানুষের ভীড়ে আমার গ্রামের অসহায়দের সাহায্যে কে এগিয়ে আসবে কিংবা বিষয়টা মানুষ কিভাবে নেবে, অনেক সময় তো শুনি, দেখি, লিখি অসহায়দের টাকা নয় ছয় হয়। আমার ছাত্র জীবনের আদর্শ, কর্মজীবনের ক্ষেত্র, সামাজিক অবস্থানের সাথে বিষয়টা খাপ খাইবে কিনা তাও চিন্তায় ছিল।

বেশ কিছুদিন যাবত আমি শাহেনা ও শাবানার পাশে আছি, কিন্তু কুলিয়ে উঠতে পারছিলাম না, যখন শুনতাম, “যা তারা পায় তাতে তাদের চলে না”। ওই সময়টাতে আমার খুব অস্থির লাগতো। যারা চোখে দেখে না, নিজেরা কিছু করার ক্ষমতা রাখে না, অন্যের সাহায্য ছাড়া অতি প্রয়োজনীয় কাজগুলোও করতে পারে না, বাবা মায়ের কোনো সহায় সম্পদও নাই। কি করা যায়, ভেবেও পাচ্ছিলাম না। এতো অসহায় মানুষগুলোকে আল্লাহ আমাদের সমাজে এই জন্যই জীবিত রাখেন যে, যাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদেরকে দেয়া হাত পা চোখসহ বিভিন্ন অঙ্গের ও টাকা পয়সার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি।

আমার বিশ্বাস এবার তাদের একটা অন্ন বস্ত্রের ব্যবস্থা হবে। আবারও আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সাথে নিজ নিজ এলাকার অসহায়দের খোজ খবর নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার করার অনুরোধ করছি। যেভাবে আমার পাশে মানুষ দাড়িয়েছেন, একইভাবে আপনার পাশে আমি কিংবা অন্য কেউ দাড়াবে। একেকটি এলাকায় হয়তো ৫/৭ জন এ ধরনের অসহায়দের সন্ধান পাওয়া যাবে। পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে গেলে অসহায়রাও অবলম্বন পাবে। মানবতারই জয় হবে।

-লেখকঃ আইনজীবী ও সংবাদকর্মী
হবিগঞ্জ ১৩ মে ২০২১ইং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *