দু:খিনী মায়ের আর্তনাদ : শিব্বির আহমদ আরজু

বাবা তুই একি করলি দিলে ফিকল ছুড়ে
সেই আঘাতে চলে গেলাম ইহজগত ছেড়ে।
তুই না আমার বুকের ধন কেমনে দিলে ঘা
ধারালো সেই অস্ত্র ছুড়তে বুক কি কাপল না ?
তুই তো আমার বাছা ধন মোহাম্মদ আলী
চেয়ে দেখ লোকে বলছে আমায় আরেক ফেলানী।
এজন্যই কি আমি রেখেছি তোকে দশমাস গর্ভে
তুই আমাকে হত্যা করবি ভাবিনি জীবনে।
রাতে তুই কোথাও গেলে আমি থাকতাম সজাগ
কখন জানি আমার বাছাধন দরজায় দিবে হাক।
তুই যখন গর্ভে আসলি আমি করেছি কষ্ট
জোড়ে তুই লাথি দিতে সেটা ছিল নিত্য।
তুই যখন জন্মনিলে আমি তখন অচেতন
তোর চাঁদমাখা মুখ দেখে খুশি সব স্বজন।
আমি তখনও গভীর অচেতন ব্যাথায় কাতর
তোর জন্মদানের সময় যেন এ আরেক হাশর।
তুই যখন শিশু ছিলে রাখতাম যতন করে
তোর মুখপানে চেয়ে রাত কাটাতাম জেগে।
তুই সদা হাগু করতে করতাম আমি ছাপ
মাঝে-মধ্যে নিশি রাতে করতে তুই বিলাপ।
এসব আমি হাসি মুখে নিয়েছি বরণ করে
একে একে এতটা বছর রেখেছি শাড়ির আঁচলে।
জায়গা নিয়ে বিরোধ করে সংঘর্ষ করলে তুই
ত্ইু আমাকে হত্যা করবে ভাবেনি তো কেউ।
তুচ্ছ একটা বিষয় নিয়ে ফিকল ছুড়লে বেটা
আমাকে হত্যা করে তোর জীবনটাই এখন বৃথা।
তুই আমার বুকের ধন ত্ইু-ই আমার ঘাতক
পৃথিবীতে জেল খাটার পর পরকালে তোর দোযখ।
তুই আমার হত্যাকারি জেনে গেছে জগতবাসী
এরপরও তুই বুকের ধন তোকে ভালোবাসি।
বিদায়বেলায় জগতবাসীকে জানিয়ে যাই আমি
কারও ঘরে যেন এমন সন্তান না দেন অন্তর্যামি।
লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব,
বানিয়াচং, হবিগঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *