ব্যর্থতার অহংকার : সায়লা খান

ভাগ্যর চোখে যখন অযোগ্য হয়ে পড়ি, আমি তখন একা একা-ই বিলাপ করি, এবং আমার ব্যর্থ চিৎকার তখন ডাক দিয়ে বলে বধির এ পৃথিবীকে, তাকাও আমার দিকে এবং আমার ভাগ্যকে অভিশাপ দাও! আমাকে ব্যর্থ করতে যাদের আয়োজন অনেক, তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাও! আশা করি তাদের মতো করে তুমিও আমাকে শুভেচ্ছার বদলে ব্যর্থ করে ভাগ্যের উপর দোষ চাপাবে। তাদের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত, তার মতো বন্ধুবান্ধব, এই ব্যাক্তির শিল্প এবং সেই ব্যাক্তির সুযোগটি! ভীষণরকম আনন্দ কামনা করছে ব্যর্থ করে দেয়া আয়োজকরা, আমি সবচেয়ে সন্তুষ্ট হয়ে যেভাবে আনন্দ উপভোগ করি তার সাথে কারোর-ই মিল নাই! আমার চিন্তা, আমার চেতনা, আমার ইচ্ছে, আমার মেধা, আমার মননশীলতা, এ অনুভূতি দিয়ে যদি ব্যর্থতার দায় নিতে হয়, তবুও এইগুলিতে এই রাজ্যে-ই আমি বাস করি দূর্ভাগ্য নিয়ে! উদয়াস্তে সব ব্যর্থতা নিয়ে গড়ে ওঠা নিরানন্দের দিবসের বিরতিতে! খোঁজ করি এইজন, সেইজন, আয়োজকদের, কেনো খোঁজ করি? ধন্যবাদ দেবো বলে! আমাকে ব্যর্থ করে ভাগ্যের ঘাড়ে দোষ দিয়ে বাঁচালো আমাকে! স্বল্পদৈর্ঘ্য পৃথিবী থেকে স্বর্গের গেটের দূরত্বটা বড়োবেশি কঠিন কিছু নয়, কিছু সৌন্দর্য্যের যোগক্ষেত্র মাত্র! এরপরও আমি নিন্দুক রাজাদের সাথে আমার দূর্ভাগ্যের রাজ্য বদলানোর চেষ্টাও করি না!!

লেখত: আইনজীবি কবি ও কলামিষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *