গোপনে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টায় মার্কিন বিজ্ঞানীরা

বাংলা কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট ॥ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা উঠেপড়ে লেগেছেন বিশ্বজুড়ে প্রলয় সৃষ্টি করা ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব নভেল করোনাভাইরাসের একটা ওষুধ বা ভ্যাকসিন তৈরিতে। তারা এখনো সফলতার মুখ দেখেননি। এ দিকে একদল মার্কিন বিজ্ঞানী, বিলিওনিয়ার ও নোবেলজয়ী গোপনে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন করোনার ভ্যাকসিন তৈরির।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সংযুক্ত এই গ্রুপটি কিভাবে করোনার চিকিৎসা বিকাশ করবেন এবং আমেরিকাকে করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাব মুক্ত করবেন সে জন্য দ্রুত একটি ভ্যাকসিন তৈরি করতে চার স্তরের প্রস্তাব রেখেছেন। ‘সাইন্টিস্ট টু স্টপ কোভিড-১৯’ নামের এই গ্রুপটির কথা প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

শীর্ষস্থানীয় রাসায়নিক জীববিজ্ঞানী, মহামারীবিদ, স্নায়ুবিজ্ঞানী, অনকোলজিস্ট এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে শীর্ষ বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে এই গ্রুপটি গঠিত। এর নেতৃত্বে রয়েছেন টম কাহিল নামের ৩৩ বছর বয়সী একজন চিকিৎসক ও পুঁজিপতি।

বিজ্ঞানীদের এই দলটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নভেল করোনাভাইরাস পরীক্ষা, চিকিৎসা, শনাক্ত এবং নিরাময়ের সম্ভাব্য সমাধানগুলো নিয়ে গবেষণা করছে। দলটি যাতে দ্রুত সফলতা পেতে পারে সে জন্য সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন তারা।

দলটি বলেছে, ‘আমরা আবেগপ্রবণ নাগরিক-বিজ্ঞানীদের একটি গ্রুপ, যারা স্বল্পতম সময়ে নিরাপদ ও কার্যকর কোভিড-১৯ চিকিৎসা এবং ভ্যাকসিন তৈরির জন্য কাজ করছে। আমরা আমাদের সমাজকে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে চাই এবং ভবিষ্যতে যাতে কোভিড-১৯ ঝুঁকি না থাকে সে জন্য চেষ্টা করছি। এ জন্য আমরা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেছি। এখানে এমন বিজ্ঞানীদের সংযুক্ত করা হয়েছে যাদের মনে ন্যূনতম বাণিজ্যিক-আর্থিক কোনো ভাবনা নেই। আমাদের একমাত্র অনুপ্রেরণা হলো আমাদের দেশ ও বিশ্ব এখন যে গুরুতর হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে, তাকে পরাস্ত করতে সহায়তা করা।’

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গবেষণার হতাশাজনক অগ্রগতি দেখে মার্চের গোড়ার দিকে কাহিল প্রথম দলটিকে জড়ো করেছিলেন। কাহিল আর্থিক বিনিয়োগে জড়ানোর আগে ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে এমডি এবং পিএইচডি অর্জন করেছেন। তার দলে আছেন বোস্টন সেল্টিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ প্যাগলিয়াকা, বিলিওনিয়ার পিটার থিয়েল এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের দীর্ঘকালীন বিনিয়োগ সহযোগী নিক আয়ার্স।

গ্রুপটি তাদের চার স্তরের এই প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মনুচিন, জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ডিরেক্টর ফ্রান্সিস কলিন্স এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সাথে আলোচনা করেছেন। তবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। বিজনেস ইনসাইডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *