৩ দিনেও করোনা রোগীকে দেখতে যাননি কোনো ডাক্তার!

এম এ মজিদ, হবিগঞ্জ :  “করোনায় আক্রান্ত এক রোগীর গল্প” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর দেশে বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও করোনায় আক্রান্ত রোগীরা দাবি করছেন যে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তিনি বা ওই কেন্দ্রে তার সাথে থাকা অন্য রোগীদের সাথে কোনো চিকিৎসকের দেখা হয়নি।

লাখাই উপজেলার মহরমপুরের বাসিন্দা করোনা রোগী শুক্রবার দুপুর ১১টার দিকে বলেছেন, তিন দিনে কোনো ডাক্তারের দেখা তিনি পাননি। বারবার চেয়েও গরম পানি তিনি পাচ্ছেন না। একবার একটি প্লাস্টিকের পানির বোতলে তাকে কিছু গরম পানি দেয়া হয়। প্লাস্টিকের পানির বোতলে গরম পানি দেয়ায় বোতলটিতে ধরাও যায় না, তেমন ব্যবহারও করা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, আমাকে হঠাৎ করে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। আমার গ্রামকে লকডাউন করা হয়েছে। পরিবারের কাউকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। মানিব্যাগটিও আমি আনতে পারিনি। এখন যে আমি একটি ইলেক্ট্রিক কেতলি কিনে গরম পানি ব্যবহার করব তাও পারছি না। এখনো তাকে কোনো খাট দেয়া হয়নি, ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে বলেও জানান ওই করোনা রোগী।

তিনি বলেন, তার রুমে থাকা অপর করোনা রোগীরও একই অবস্থা। পাশের রুমে থাকা আরো ছয়জন করোনা রোগীকে কেউ দেখতে আসেনি বলেও জানান তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার শামিমা। শুক্রবার দুপুরে ডাক্তার শামিমা এই প্রতিবেদককে বলেন, ডাক্তার সোলায়মান ও ডাক্তার মৌসুমী ভদ্র আজ শুক্রবারও করোনা রোগীদের দেখেছেন। প্রয়োজনীয় সব কিছুই করা হচ্ছে। তবে করোনা রোগ একটি নতুন রোগ, কেউই যখন রোগী কিংবা হাসপাতালের পাশে যাচ্ছে না, তখন কিন্তু ডাক্তা,র নার্স, ব্রাদার, আয়া ঠিকই রোগীর পাশে যাচ্ছেন, কথা বলছেন, রোগীর নমুনা নিচ্ছেন, তাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসা আর খাবারের ব্যবস্থা ছাড়া আপাতত আমাদের আর কোনো ব্যবস্থা নেই। যদি কেউ গরম পানি চায় তাদেরকে তা দেয়া হচ্ছে। তবে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গরম পানি সরবরাহেও সমস্যা হচ্ছে। প্রত্যেককে পর্যাপ্ত গরম পানির সুব্যবস্থা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

কোনো কোনো রোগীকে এখনো ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

এব্যাপারে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার মৌসুমী ভদ্র শুক্রবার জানান, “আমি এবং ডাক্তার সোলায়মান সাহেব নিয়মিত ডিউটি করেছি। এর বাইরে আমি কিছু বলতে পারব না”।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শামিমা ও করোনা রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার মৌসুমী ভদ্রের সাথে আলাপের পর সর্বশেষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীর সাথে পুনরায় কথা হয় দুপুর ২টা ৫২ মিনিটে।

ওই করোনা রোগী জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ডাক্তার আমাদেরকে দেখতে আসেননি। একবার এক ঝাড়ুদার এসে আমাদের রুমের বাইরে ঝাড়ু দিয়ে গেছে। ভাবছিলাম, যেহেতু ঝাড়ু দেয়া হচ্ছে হয়তোবা কোনো ডাক্তার আসবেন আমাদেরকে দেখতে। কিন্তু কোনো ডাক্তার আসেননি, আমার সাথে কথা বলেননি, কোনো নমুনা সংগ্রহ করেননি”।

এদিকে হবিগঞ্জে আরো তিনজন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এনিয়ে হবিগঞ্জ জেলায় মোট করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২১ জন। নতুন তিনজনের মধ্যে একজন মাধবপুর হাসপাতালের ব্রাদার। অন্য দু’জনের বাড়ি লাখাই ও বাহুবল উপজেলায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *