আমি হারিনি! ইরফানের স্ত্রী

বাংলা কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট ॥  ইরফানের মৃত্যুর পর এই প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো পোস্ট করলেন তার স্ত্রী সুতপা শিকদার। ফেসবুকে লিখলেন, ‘আমি হারিনি! আমি সব দিক দিয়ে লাভ করেছি…’।

মারণব্যাধি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বুধবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন অভিনেতা ইরফান। মাত্র ৫৩ বছর বয়সে পরপারে চলে যেতে হয় বলিউডের জনপ্রিয় এ অভিনেতাকে। কোলন সংক্রমণ নিয়ে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সেখানেই মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয় ইরফানকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলের ছবি বদলে দেন সুতপা। আর সেই ছবির ক্যাপশনেই তিনি লিখেছেন, ‘আমি হারিনি!’ সেই ছবি দেখলেই ইরফান-সুতপার কেমিস্ট্রির এক ঝলক ভেসে উঠবে চোখের সামনে। সে ছবিতে ইরফানকে জড়িয়ে ধরে রয়েছেন সুতপা।

এ দিকে ইরফানের পুত্র বাবিলও বন্ধু এবং প্রিয়জনদের ধন্যবাদ জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে বাবিল লিখছেন, ‘আমার বন্ধুরা দুর্দিনে যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে। আশা করি আপনারা সকলেই বুঝতে পারছেন যে, এই মুহূর্তে আমার শব্দভাণ্ডার গুলিয়ে যাচ্ছে। আমি সবার কাছে ফিরে আসব। কিন্তু এই মুহূর্তে নয়। অনেক ধন্যবাদ। খুব ভালোবাসা সবাইকে!’

কলকাতা শহরে ইরফান খান পা রাখলে টের পাওয়া যেত, বাংলার জামাই তিনি। তিনি বলতেন, ‘বাঙালিরা ঘুরে ফিরে আমার জীবনে চলেই আসেন’। নায়কের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বাঙালি সুতপা শিকদারের সাথে ইরফানের মন দেয়া-নেয়ার পর্বটি ঘটে ন্যাশানাল স্কুল অফ ড্রামায়। প্রথম প্রথম সুতপাকে ওভারস্মার্ট মনে হতো ইরফানের। কিন্তু ক্রমশ বন্ধুত্ব তৈরি হয় তাদের মধ্যে।

প্রগতি ময়দানের শকুন্তলম থিয়েটারে দু’জনে সিনেমা দেখতে যেতেন। সিনেমা দেখার পর হেঁটে ফিরতেন এনএসডি পর্যন্ত। ইরফান লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইটে বিশ্বাস করতেন না। তার প্রশ্ন ছিল, ‘একটা সম্পর্ক কোনদিকে এগোচ্ছে, সেটা জানতে চাইলে ম্যাজিকটাই নষ্ট হয়ে যায় না?’ সুতপা একসময়ে জানিয়েছেন যে, বিয়ে নিয়ে তার কোনো আলাদা উচ্ছ্বাস ছিল না। ইরফানও মনে করতেন না, সম্পর্ককে কোনো নাম দিতেই হবে। ১৯৯৫ সালে তারা জীবনবন্ধনে বাঁধা পড়েন।

ইরফান যখন টেলিভিশনে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে শুরু করেছেন, সুতপা তার আগেই বলিউডে রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত ‘খামোশি’ ছবির সংলাপ লিখেন। পরবর্তীকালে কোনো বাঙালি ইরফানকে যোগাযোগ করতে চাইলে প্রথমে সুতপার সাথে যোগাযোগ করতেন। ইরফানের ছবি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সুতপার পরামর্শ ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ইরফান যখন অসুস্থ, তাকে বাঁচাতে প্রাণপণ লড়াই করেছেন সুতপা। বিদেশে ক্যানসারের চিকিৎসার শেষে দেশে ফেরার পরও ইরফান বলেছিলেন, তিনি সুতপার জন্য বাঁচতে চান। বলিউডে সবাই জানতেন, সুতপার জন্য ইরফানের ভালোবাসা গাঢ়।

ইরফানের মৃত্যুতে তার পরিচালক বন্ধু সুজিত সরকার টুইটারে লিখেছেন, ‘সুতপা এই লড়াইয়ে তুমি তোমার সবটুকু দিয়েছো।’

সূত্র : এই সময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *