কৃষকের কাছ থেকে সবজি কিনে ইফতার সামগ্রী হিসেবে বিতরণ করছে প্রশাসন

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি সবজি কিনে তা ইফতার সামগ্রী হিসেবে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করছে জেলা প্রশাসন। এতে কৃষকের যেমন নায্যমূল্য নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি দরিদ্ররাও পাচ্ছে পুষ্টিকর সবজি। এমন উদ্যোগে খুশি করোনা প্রাদুর্ভাবে চরম বেকায়দায় থাকা সবজি চাষীরা।জেলায় চলতি বছর সবজির বাম্পার ফলন হলেও করোনাভাইরাসের কারণে পাইকারি ক্রেতারা আসতে পারছেন না। উৎপাদনের তুলনায় স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকায় কৃষকরা পানির দরেও বিক্রি করতে পারছেন না উৎপাদিত সবজি। আর সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মজুদেরও সুযোগ নেই। এ অবস্থায় চরম হতাশায় পড়েন স্থানীয় সবজি চাষীরা। কৃষকের এমন দুরবস্থায় স্থানীয় চাষীদের কাছ থেকে নায্যমূল্যে সবজি কেনার উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কেনা হয়েছে করলা, টমেটো, শশা, চিচিঙ্গা, জিঙ্গা, আলু। শনিবার বিকেলে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক বদু মিয়াসহ ১৫ কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ৯শ কেজি সবজি কেনে জেলা প্রশাসন।স্থানীয় চাষীরা জানান, এ বছর সবজির ভালো ফলন হয়েছে। তবে অন্যান্য বছর বাইরে থেকে পাইকার এলেও এবার আসছেন না। সেজন্য চাষীরা স্থানীয় বাজারগুলোতে ১০ টাকা কেজি দরে টমেটো, ১৫ টাকা কেজি দরে সিনাত বেগুন ও ৪০ টাকা কেজি দরে কাঁচামরিচ বিক্রি করছেন। আর এতো কম দামে সবজি বিক্রির ফলে শ্রমিক খরচ ও অন্যান্য খরচ তোলা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। অথচ রমজান মাসে অন্য বছরে এর কয়েকগুণ বেশি দাম পাওয়া যেত।রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মাধবপুরের এক কৃষক জানান, চলতি বছর কৃষকরা লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলেও করোনার কারণে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী এলাকার পাইকাররা বাজারে না আসায় সবজি বিক্রি করতে পারছি না। সেজন্য পানির দামে গ্রামের বাজারে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। রমজানে শশার দাম বেশি থাকলেও এবার কেজি প্রতি শশা বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ টাকা। জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ভাল দাম পেয়ে আমরা আনন্দিত। তাছাড়া তারা সরাসরি জমি থেকে সবজি নিয়ে যাচ্ছেন, ফলে পরিবহন নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে না। সবাই যদি এভাবে এগিয়ে আসেন তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবে।হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, সবজি চাষীদের সুরক্ষা দিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কেনা সবজিগুলো চলমান সরকারি ত্রাণ সহায়তায় চাল-ডালের সাথে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে আরও বেশি পরিমাণ সবজি কেনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *